সুন্দর সংসার মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে গেল কেন? দুই আদরের কন্যা ও স্ত্রীকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে সংসার করছিলেন হরীশ। কিন্তু সেই রাতে তাঁর কী হয়েছিল? হঠাৎ কেন স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিলেন? মহীশূরের হুনসুরে ঘটে যাওয়া এই সাংঘাতিক ঘটনার কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। এরই মধ্যে হরীশের লেখা আরও একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে।
রহস্যময় মৃত্যুর নেপথ্যে কী?
স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সুখের জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু রাত পেরিয়ে ভোর হওয়ার আগেই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে নিজেও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। কে এই ব্যক্তি? এই রহস্যময় মৃত্যুর পিছনের আসল কারণ কী?
এক রাতেই শেষ করে দিলেন গোটা পরিবার:
মৃত ব্যক্তির নাম হরীশ। তিনি মাইসুরু জেলার হুনসুর শহরের নিউ মারুতি কলোনির বাসিন্দা। পেশায় তিনি ফাইন্যান্স ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জমি, বাড়ি, গাড়ি-সহ আর্থিকভাবে যথেষ্ট স্বচ্ছল ছিলেন। কিন্তু এক রাতের মধ্যেই নিজের পরিবারকে হত্যা করে নিজেও মৃত্যুর পথ বেছে নেন।
তিন দিন আগে বেড়াতে যাওয়ার অজুহাতে তিনি নিজের মাকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফিরে সেই রাতেই বন্ধুদের সঙ্গে মোবাইলে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তাও বলেন। কিন্তু গভীর রাতে কী ঘটেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযোগ, তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যার মুখ ও নাক প্লাস্টার দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
তিন পাতার সুইসাইড নোট:
হরীশ একটি তিন পাতার সুইসাইড নোট লিখেছিলেন। সেখানে মৃত্যুর পর কার কী সম্পত্তি পাওয়া উচিত, সম্পত্তির নথিপত্র কোথায় রাখা আছে—এসব বিস্তারিত লিখে যান। এরপর তিনি বাড়ির তৃতীয় তলায় গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
দ্বিতীয় সুইসাইড নোটে কী লেখা ছিল?
এই ঘটনার তদন্তে পুলিশ আরও একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। সেটিও হরীশের লেখা এবং মূলত সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের সর্বনাশের কারণ কী?
সুইসাইড নোটে হরীশ লিখেছেন, ‘‘আমি জীবনে ব্যর্থ হয়েছি। তাই এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।’’
অন্য একটি নোটে তিনি লিখেছেন, ‘‘আমি না থাকলে আমার স্ত্রী ও সন্তানদের কষ্ট হবে। তাই তাদেরও আমার সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি।’’
আর্থিক চাপে এই সিদ্ধান্ত?
ঘটনার রাতে হরীশের এক বন্ধু ফোন করে জানান, বাড়িতে কেউ ফোন ধরছে না। এরপর প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে যে দৃশ্য দেখেন, তাতে সবাই স্তম্ভিত হয়ে যান।
হরীশ ফাইন্যান্স ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকায়, আর্থিক চাপ বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন বলে বন্ধু ও আত্মীয়রা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
পুলিশ কী বলছে?
মাইসুরু জেলার পুলিশ সুপার মল্লিকার্জুন বালাদান্ডি বলেছেন, ‘‘হরীশের কোনও দৃশ্যমান সমস্যা ছিল বলে জানা যায়নি। তা সত্ত্বেও কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি সুইসাইড নোট লিখে গেছেন। ফাইন্যান্স ব্যবসা ছাড়াও অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।’’
একটি সুখী ও পরিপূর্ণ পরিবার মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা পুলিশের তদন্ত শেষ হলেই স্পষ্ট হবে।