Last Updated:
মৌলানা ফজলুর রহমান প্রকাশ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের নিরাপত্তা নীতি এবং শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার সমালোচনা করেছেন।
ইসলামাবাদে মোল্লা-সামরিক জোটের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিতবাহী এক উচ্চঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপে, রাষ্ট্র-সমর্থিত ধর্মীয় নেতা হাফিজ তাহির মাহমুদ আশরাফি (Hafiz Tahir Mahmood Ashrafi) মার্কাজ কুবায় (Markaz Quba) জাতিসংঘ ঘোষিত সন্ত্রাসবাদী হাফিজ সঈদের ছেলে হাফিজ তালহা সঈদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পাকিস্তান উলেমা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং লস্কর-ই-তইবা (LeT)-এর নেতৃত্বের মধ্যে দিনের আলোয় অনুষ্ঠিত এই কৌশলগত বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল মৌলানা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে ঠিকঠাক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করা। ফজলুর রহমান প্রকাশ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের নিরাপত্তা নীতি এবং শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার সমালোচনা করে আসছেন।
পাকিস্তানের অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামি দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (জেইউআই-এফ)-এর প্রধান মৌলানা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ১৩ জুলাই পাকিস্তানের পঞ্জাবের কাসুর জেলায় এক জনসভায় আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক বাহিনীর শহিদ সদস্যদের সম্পর্কে বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে এই মামলা করেন এক স্থানীয় বাসিন্দা।
সরাসরি সংঘাতের পক্ষে না গিয়ে, সেনাবাহিনী-ঘনিষ্ঠ এই জোট ফজলুর রহমানের প্রতি একটি ‘নরম অবস্থান’ এবং কৌশলগত নমনীয়তা প্রদর্শনের পক্ষে মত দিয়েছে, যাতে বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি না করেই তাঁর রাজনৈতিক গতি থামিয়ে দেওয়া যায়। বৈঠকে উপস্থিত লস্কর-ই-তইবার প্রতিনিধিরা ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তাঁরা জমিয়তে উলেমা-ই-ইসলাম (ফজল) বা জেইউআই-এফ (JUI-F)-এর প্রধান ফজলুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন, তবে একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য না দেওয়ার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তাও পৌঁছে দেন। প্রথাগত ধর্মীয়-রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে জিহাদি নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করে রাওয়ালপিন্ডি ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ভিন্নমত থেকে তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-কে রক্ষার জন্য উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে।
তাহির আশরাফি এবং লস্কর-ই-তইবার নেতৃত্বের মধ্যে এই প্রকাশ্য যোগাযোগ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ এখনও নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের মূলধারায় নিয়ে আসছে এবং তাদের শুধু ‘এক্সটার্নাল প্রক্সি’ হিসেবেই নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সম্পদ হিসেবেও ব্যবহার করছে। ফজলুর রহমানের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মোকাবিলায় উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানোর এই কৌশল রাওয়ালপিন্ডির রাজনৈতিক দুর্বলতাকেই সামনে আনে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, যখন প্রচলিত রাজনৈতিক উপায় ব্যর্থ হয়, তখন তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ নিজেদের কর্তৃত্ব রক্ষা এবং জাতীয় রাজনৈতিক বয়ানকে প্রভাবিত করতে উগ্রপন্থী প্রক্সিদের উপর নির্ভর করে।
Kolkata,West Bengal
