কলকাতা: তাঁর কন্ঠে যেন সবসময়েই পাওয়া যায় মাটির সুর, জীবনের ছোঁয়া। বিভিন্ন ধারার গানে, তিনি শুধু জীবনকে উপভোগ করার কথাই বলেন, বাঁচার বার্তা দেন। আট থেকে আশি, প্রত্যেক বাঙালিরই মন ছুঁয়ে যায় তাঁর গান, বছরের পর বছর ধরে। লোপামুদ্রা মিত্র (Lopamudra Mitra)। তবে শুধু আনন্দ নয়, তাঁর গান সবসময়েই ছুঁয়ে যায় পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি থেকে শুরু করে, সমাজকে। সেই সুরই শোনা গেল, তাঁর নতুন গানে। মুক্তি পেল, লোপামুদ্রা মিত্রের নতুন গান, ‘মগজধোলাই’। এই শব্দ আমাদের এক লহমায় ফিরিয়ে নিয়ে যায় ছোটবেলায়। লোপামুদ্রার নতুন গানেও রইল, গুপি গায়েন, বাঘা বায়েনের সেই রূপকথার ছোঁয়া।
লোপামুদ্রার গানে ‘হীরক রাজার দেশে’-র স্মৃতি
‘মগজধোলাই’ বলতেই আমাদের মনে পড়ে যায়, সত্যজিৎ রায় (Satyajit Roy) পরিচালিত সেই কিংবদন্তি সিনেমার কথা, ‘হীরক রাজার দেশে’। রূপকথার মোড়তে সেই সিনেমার পরতে পরতে ছিল, পলিটিক্যাল স্যাটায়ার। এত বছর পেরিয়েও হীরক রাজার সেই রাজ্যের বর্ণনা যেন হুবহু মিলে যায় বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে। ২০২৬-এ বসে এই ছবি দেখতে অনেকেরই মনে হতে পারে, এই ছবি যেন বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটেই তৈরি। লোপামুদ্রার এই গানেও রইল সেই ছোঁয়া। আর রইল, ভাল সময়ের বার্তা। সবাই মিলে একসঙ্গে ভাল থাকার কথা, সবার সমান সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা। এই গান মুক্তি পেতে অনেকেই বলেছেন, এই গানে যেন অনেকেই পুরনো লোপামুদ্রাকে খুঁজে পেয়েছেন। যিনি দ্বর্থ্যহীন ভাষায় তুলে ধরতেন, বর্তমান পরিস্থিতির কথা।
বর্তমানে ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল গোটা দেশ। দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, সেই আন্দোলন এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশ জুড়ে। পথে নেমেছেন সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা। পুলিশের ওপর তাঁদের লাঠিচার্জের ঘটনায় গর্জে উঠেছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিনোদন ও ক্রীড়াদুনিয়া। লোপামুদ্রার এই গানকে অবশ্য অনেকেই মনে করেছেন যে, এই গান দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা। সঙ্গীতশিল্পীর ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন অনেকে। তবে সঙ্গীতশিল্পী জানিয়েছেন, এই গান ২০২৩ সালে লেখা। সামগ্রিকভাবে সমাজের কথা বলা হলেও, এই গানের সঙ্গে দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের আদৌ কোনও যোগ নেই।