Last Updated:
Money Making Tips: সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে লক্ষ লক্ষ টাকার তহবিল গড়ে তোলা সম্ভব। কীভাবে সহজেই আয় বাড়ানো যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরি করা যায়, জেনে নিন বিস্তারিত।
বসিরহাট, জুলফিকার মোল্যা: পতিত জমি থেকেই স্বনির্ভরতার গল্প, সুপারি চাষে বদলে গেল কৃষকের ভাগ্য। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের মৈত্র বাগান কলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা অরবিন্দ মণ্ডল দেখিয়ে দিয়েছেন, বাড়ির পাশে পড়ে থাকা পতিত জমিও হতে পারে স্থায়ী আয়ের উৎস। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা জমিতে পরিকল্পিতভাবে সুপারি চাষ শুরু করে আজ তিনি গড়ে তুলেছেন একটি সফল কৃষি উদ্যোগ। বর্তমানে তার প্রায় ৪০০টি সুপারি গাছ থেকে বছরে লক্ষাধিক টাকার আয় হচ্ছে।
শুরুর সময় বিষয়টি ছিল নিছক একটি পরীক্ষা। বাড়ির ফাঁকা জমিকে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে কয়েকটি সুপারি চারা রোপণ করেছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে গাছ বড় হতে থাকে এবং কয়েক বছরের মধ্যেই ফলন শুরু হয়। এরপর সেই ছোট উদ্যোগই পরিণত হয়েছে লাভজনক ব্যবসায়। এখন প্রতি মৌসুমে সুপারি বিক্রি করে ভালো মুনাফা পাচ্ছেন তিনি।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত মানের সুপারি গাছ সাধারণত আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ফল দিতে শুরু করে। তুলনামূলক কম পরিচর্যাতেই এই গাছ ভালভাবে বেড়ে ওঠে। নিয়মিত জলসেচ, আগাছা পরিষ্কার এবং প্রয়োজনীয় জৈব সার প্রয়োগ করলে দীর্ঘদিন ধরে ভাল ফলন পাওয়া সম্ভব। সুপারি চাষের অন্যতম বড় সুবিধা হল, অল্প জায়গাতেই বেশি সংখ্যক গাছ লাগানো যায়। এছাড়া গাছগুলো লম্বা হওয়ায় নিচের ফাঁকা জায়গায় বিভিন্ন সবজি, মসলা বা অন্যান্য অর্থকরী ফসলও চাষ করা সম্ভব। ফলে একই জমি থেকে একাধিক উৎসে আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
অরবিন্দ মণ্ডলের এই উদ্যোগ এখন আশপাশের বহু কৃষকের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। অনেকেই তার বাগান পরিদর্শন করে সুপারি চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে জানছেন এবং নিজেদের পতিত জমিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছেন। কৃষকদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং নিয়মিত পরিচর্যা থাকলে সুপারি চাষ দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক একটি কৃষি উদ্যোগ হতে পারে। বাড়ির অব্যবহৃত জমিকে উৎপাদনশীল সম্পদে পরিণত করে অতিরিক্ত আয়ের পথ তৈরি করার ক্ষেত্রে এই চাষ নিঃসন্দেহে একটি কার্যকর বিকল্প।
Basirhat,North Twenty Four Parganas,West Bengal