Last Updated:
Homemade Toy Business: কম খরচে ঘরে বসে উপার্জনের অনন্য সুযোগ এনে দিচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প। বাঁকুড়া শহরের মৌলাডাঙার চন্দ পরিবার কাগজ, পিচবোর্ড ও মাটির সংমিশ্রণে তৈরি করছে বিশেষ পুতু। অনলাইনেও ব্যাপক চাহিদা থাকবে এই খেলনার। এটি তৈরির করে স্বল্প পুঁজিতেই সম্ভব ঘরে বসে লাভজনক বিজনেস গড়ে তোলা সম্ভব।
বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: টুকটুক করে নড়ছে মাথা, আর সেই দৃশ্যেই মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকছেন ছোট থেকে বড় সকলেই। বাঁকুড়া শহরের মৌলাডাঙার চন্দ পরিবারের হাতে তৈরি এই বিশেষ কাগজের পুতুল এখন জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় লোকশিল্প। হাতি ও সিংহের আদলে তৈরি রঙিন এই পুতুলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, সামান্য হাওয়া বা স্পর্শ পেলেই এর মাথা দুলতে শুরু করে। অভিনব এই নকশা এবং চলমান মাথার জন্য পুতুলগুলি সহজেই নজর কেড়ে নেয় শিশুদের।
পুরো পুতুলটি তৈরি হয় কাগজ, পিচবোর্ড, বাঁশের ছোট টুকরো এবং মাটি দিয়ে। প্রথমে কাগজ ও পিচবোর্ড দিয়ে দেহ তৈরি করা হয়। এরপর কাগজ দিয়েই বানানো হয় হাতি বা সিংহের মাথা। বাঁশের সরু টুকরোর মাধ্যমে মাথার সঙ্গে দেহের সংযোগ ঘটানো হয়। শিল্পীদের কথায়, বাঁশের নিচের অংশে মাটি ভরে ওজন তৈরি করা হয় বলেই পুতুলের মাথাটি ভারসাম্য রেখে টুকটুক করে নড়তে থাকে। এই সহজ অথচ অভিনব কৌশলই পুতুলটিকে অন্য সব খেলনা থেকে আলাদা করেছে।
মৌলাডাঙার চন্দ পরিবারের প্রায় সকল সদস্যই এই কাজে যুক্ত। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে তাঁরা এই বিশেষ পুতুল তৈরি করে বাজারে আনেন। পাশাপাশি অন্যান্য হস্তশিল্পের কাজও করেন। একটি পুতুল ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। পরিবারের মহিলা শিল্পীরা জানান, সীমিত আয়ের মধ্যেও এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে তাঁরা নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। ক্রেতাদের ভালবাসাই তাঁদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রধান অনুপ্রেরণা।
পল্লী বাংলার এই ঘরোয়া শিল্প, এবং তার প্রস্তুতি এতটাই সরল যে খুব অল্প প্রশিক্ষণে এই কাজ শিখে নিতে পারে যে কেউ। অতি বুদ্ধিমান মুঠোফোন এবং ইন্টারনেটের সাহায্যে, এই মৌলিক পুতুলগুলি পৌঁছে যেতে পারে বিশ্বের দরবার এবং ভারতবর্ষের যে কোনও কোনায়। তৈরি হতে পারে একটি দুর্দান্ত ব্যবসার সুযোগ। পরিবেশবান্ধব এই পুতুলগুলি ভারতবর্ষের প্রতিটি বাচ্চার হাতে পৌঁছে গেলে, তৈরি হবে প্রকৃতি নিয়ে সচেতনতা এবং পল্লী বাংলার সঙ্গে একটি মেলবন্ধন।
Bankura,Bankura,West Bengal