Last Updated:
Boat Making Business: ঘাটালে বর্ষা শুরু থেকেই জমজমাট ডিঙি নৌকো তৈরির ব্যবসা। কাঠের বদলে এবার স্থান করে নিয়েছে টিঁকসই ও হালকা টিন বা অ্যালুমিনিয়ামের পাতের তৈরি ডিঙি। যা বিক্রি হচ্ছে ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা জোড়া দরে। অতীতের স্মৃত থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘরে ঘের বাড়ছে এই ডিঙির চাহিদা।
ঘাটাল, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: বিগত বছরগুলিতে ঘাটালের নাম বন্যার খবরের শিরোনামে বারবার উঠে এসেছে। প্রতি বছর বর্ষায় টানা বৃষ্টি এবং বিভিন্ন জলাধার থেকে জল ছাড়ার ফলে প্লাবিত হয় এখানকার বিস্তীর্ণ এলাকা। বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলেই জলের তলায় চলে যায় এলাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট, মাঠ এবং প্রান্তর। তখন এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয় ঘাটালের সাধারণ মানুষকে। স্থলপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় নিত্যদিনের যাতায়াতের একমাত্র সম্বল হয়ে ওঠে ছোট ডিঙি বা নৌকো। তাই প্রতিটি বাড়িতে সাইকেল বা মোটরবাইকের মতই এখানকার মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ছোট জলযানগুলি।
পিচের রাস্তার ওপর থাকে এক কোমর জল, বইতে থাকে স্রোত। তাই রাস্তা দিয়ে গাড়ি বা অন্যান্য যান চলাচল নয়, চলাচল করে শুধুমাত্র নৌকো। ইতিমধ্যেই বর্ষার মরসুম শুরু হয়ে গিয়েছে, আর সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। আকাশের মুখ ভার দেখলেই ফের নতুন করে বন্যার আতঙ্কে দিন গুনতে শুরু করেন ঘাটালবাসী। বর্ষার শুরুতেই তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে নিজেদের যাতায়াতের মাধ্যমগুলিকে সারাই করে প্রস্তুত করে নিচ্ছেন এলাকার মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতি বছরই বন্যার সময় বিভিন্ন এলাকায় সরকারি নৌকোর ব্যবস্থা করা হয় ঠিকই, কিন্তু জনসংখ্যার তুলনায় এবং প্রয়োজনের নিরিখে তা নিতান্তই সীমিত।
তাই শুধুমাত্র সরকারি সাহায্যের দিকে চেয়ে বসে না থেকে, নিজেদের ডিঙি বা নৌকোর ওপরেই সম্পূর্ণ ভরসা রাখেন এলাকার বাসিন্দারা। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারঘাট থেকে শুরু করে জরুরি দরকারে শহরে যাওয়ার জন্য প্রতিটি বাড়ির উঠোনেই এখন সযত্নে মজুত রাখা হচ্ছে নিজস্ব ডিঙিগুলি। ঘাটাল এলাকায় মূলত তাল কাঠের তৈরি ডিঙির চলই সবচেয়ে বেশি। একটি তাল কাঠের ডিঙি তৈরি করলে তা অনায়াসেই আট থেকে দশ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। তবে মুশকিল হল, কাঠের নৌকোর আয়ু একবার ফুরিয়ে গেলে তা আর কোনও কাজেই লাগে না। সেই কারণেই বর্তমানে এলাকার মানুষের মধ্যে অ্যালুমিনিয়াম বা টিনের পাতের তৈরি ডিঙি ব্যবহারের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে।
পাতের নৌকো একদিকে যেমন ওজনে হালকা, অন্যদিকে তেমনই টেকসই হওয়ার কারণে অনেকেই এখন এই নতুন ধরনের জলযান তৈরির দিকে বেশি ঝুঁকছেন। আকাশে কালো মেঘ আর বন্যার ভ্রুকুটি যত চওড়া হচ্ছে, ঘাটালে ডিঙি নৌকোর চাহিদাও যেন তত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বর্তমানে ঘাটালের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা জোড়া দরে বিক্রি হচ্ছে এই ডিঙিগুলি। চাহিদা তুঙ্গে থাকায় নৌকো তৈরির কারখানা এবং স্থানীয় দোকানগুলিতে এখন ব্যস্ততা চোখে পড়ার মত। বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই ক্রেতাদের হাতে দ্রুত নৌকো তুলে দিতে দিনরাত এক করে জোর কদমে কাজ করছেন কারিগররা। সবমিলিয়ে, বর্ষার ঘাটালে এখন জলবন্দি দিনগুলির সঙ্গে লড়াই করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে।
Paschim Medinipur,West Bengal