Last Updated:
Money Making Ideas: পাট চাষে নতুন সম্ভাবনার দিশা দেখাচ্ছে একটি বিশেষ পাউডার। এর ব্যবহারে ফলন ও পাটের গুণমান বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের আয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে। কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং এর সুবিধাগুলি কী, জেনে নিন বিস্তারিত।
শান্তিপুর, মৈনাক দেবনাথ: পাট চাষিদের ভাগ্য ফেরাতে এবং পাটের গুণমান উন্নত করতে বাজারে এল এক বিশেষ উদ্ভাবন—‘নিনফেট সাথী’ পাউডার। নদিয়া অর্গানিক ফার্মার্স প্রডিউসার কোম্পানির ডিরেক্টর স্বরূপ কর্মকার জানান, ২০২০ সাল থেকে তাঁরা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (ICAR)-এর কলকাতার টালিগঞ্জ অফিসের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে এই নিয়ে কাজ করছেন। গত ১০ বছর ধরে এই পাউডারের সফল ট্রায়াল বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
শান্তিপুর ব্লকের বাগআঁচড়া পঞ্চায়েতের ফুলিয়া গ্রামে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় পাট চাষিদের এই প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানো হয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে পাট পচানোর সময় জলে থাকা জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়াই মূলত পচনের কাজ করে। ‘নিনফেট সাথী’ পাউডারটি আসলে ওই সব কার্যকরী ব্যাকটেরিয়ার উৎকৃষ্ট খাদ্য হিসেবে কাজ করে। ফলে দ্রুত হারে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটে এবং তারা পাটের পচন প্রক্রিয়াকে বহুগুণ ত্বরান্বিত করে। সাধারণ পদ্ধতিতে যেখানে অনেক বেশি সময় লাগে, এই পাউডার ব্যবহারে মাত্র ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে উন্নত মানের পাট পচন সম্পন্ন হয়। এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং মানবত্বক বা চামড়ার জন্য একেবারেই ক্ষতিকর নয়।
ওজন বৃদ্ধি: বিঘা প্রতি মাত্র ৫ কেজি পাউডার ব্যবহার করলেই (প্রতি কেজির দাম আনুমানিক ৫০ টাকা) পাটের ফলনে বিঘা প্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ওজন পাওয়া যায়। পাটের গুণমান নির্ধারণকারী পাঁচটি প্রধান গ্রেডের (TD-1 থেকে TD-5) মধ্যে এটি পাটের মান ১ থেকে ১.৫ গ্রেড পর্যন্ত উন্নত করে। ভালো রঙের পাশাপাশি পাটের আঁশ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মসৃণ হয় এবং কালো ছোপ বা দাগের মতো ত্রুটি দূর হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা: বাংলাদেশে উৎপন্ন হওয়া TD-1 মানের উৎকৃষ্ট পাট যা ভারতে সচরাচর দেখা যায় না, এই পাউডার ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতীয় পাট চাষিরাও সেই মানের পাট উৎপাদনে সক্ষম হবেন। বর্তমানে নদিয়া ছাড়াও হুগলি, হাওড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সংস্থাটির কার্যক্রম সফলভাবে বিস্তৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পাটের মান তুলে ধরতে এবং চাষিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এই প্রযুক্তি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Kolkata,West Bengal