Last Updated:
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং তাঁর বিচ্ছিন্ন স্ত্রী পায়েলের বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনে সম্মতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতে তাঁরা জানিয়েছিলেন, আর একসঙ্গে থাকতে চান না। এরপরই শীর্ষ আদালত সম্মত হয় তাঁদের ডিভোর্সের আবেদনে সাড়া দিতে।
শ্রীনগর: শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং তাঁর থেকে দীর্ঘদিন আলাদা থাকা স্ত্রী পায়েল আবদুল্লার বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করেছে। আদালতকে জানানো হয়, উভয় পক্ষ পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সমস্ত বিরোধের নিষ্পত্তি করেছেন এবং ‘‘স্বাধীনতাকেই বেছে নিয়েছেন’’।
বিচারপতি পি এস নরসিমহা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ ওমর আবদুল্লার দায়ের করা আপিলের নিষ্পত্তি করে। আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতকে জানান, মধ্যস্থতার মাধ্যমে দুই পক্ষের সমস্ত বিরোধ সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে মিটে গিয়েছে বলে বার অ্যান্ড বেঞ্চ জানিয়েছে। তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষই সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে যৌথভাবে আবেদন করে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের অনুমোদন চেয়েছেন।
নিজের বক্তব্যে কপিল সিব্বল বলেন, ‘‘দু’জনেই স্বাধীনতাকেই বেছে নিয়েছেন। সবকিছুর মীমাংসা হয়ে গিয়েছে। মহামান্য আদালত বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি দিতে পারেন। বাকি সব মামলাও প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।’’
এর জবাবে বেঞ্চ জানায়, ‘‘এটা ভাল হয়েছে। আমরা ওই শর্তেই মামলার নিষ্পত্তি করছি।’’
বিবাহবিচ্ছেদের আইনি লড়াই:
ওমর আবদুল্লা এবং পায়েল আবদুল্লা ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা আলাদা থাকছিলেন। তাঁদের দুই ছেলে রয়েছে— জাহির এবং জামির। ২০০৯ সাল থেকেই তাঁরা আলাদা ভাবে থাকা শুরু করেন। পরে ২০১১ সালে ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) নেতা ওমর আবদুল্লা আনুষ্ঠানিকভাবে পায়েলের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেন।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সুপ্রিম কোর্ট ওমর আবদুল্লা এবং পায়েল আবদুল্লাকে তাঁদের বৈবাহিক বিরোধ মেটানোর জন্য আন্তরিক চেষ্টা করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে দিল্লি হাইকোর্ট ওমর আবদুল্লার বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন খারিজ করে দেয় এবং ২০১৬ সালে পারিবারিক আদালতের দেওয়া রায় বহাল রাখে, যেখানে তাঁকে বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি দিতে অস্বীকার করা হয়েছিল।
প্রথমে ওমর আবদুল্লা স্ত্রী কর্তৃক পরিত্যাগ (Desertion) এবং নিষ্ঠুর আচরণের (Cruelty) অভিযোগ তুলে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লি হাইকোর্ট রায়ে মন্তব্য করেছিল যে, নিষ্ঠুর আচরণের অভিযোগগুলি ছিল ‘‘অস্পষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য নয়’’। আদালত আরও জানায়, পায়েলের এমন কোনও আচরণের প্রমাণ ওমর আবদুল্লা দিতে পারেননি, যা শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন হিসেবে গণ্য হতে পারে।
হাইকোর্ট তার রায়ে বলেছিল, ‘‘পারিবারিক আদালতের এই সিদ্ধান্তে আমরা কোনও ত্রুটি খুঁজে পাইনি যে, নিষ্ঠুর আচরণের অভিযোগগুলি ছিল অস্পষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য নয়। আবেদনকারী এমন কোনও কাজ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা তাঁর প্রতি শারীরিক বা মানসিক নিষ্ঠুরতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’’
Kolkata,West Bengal
