রুচিকার মা বলেন, ‘‘আমরা ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে একটি ক্ষমাপ্রার্থনার চিঠি জমা দিয়েছি। যা ঘটেছে তার জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত।’’
গত ২৩ জুলাই যন্তর মন্তরে আয়োজিত এক বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে অশালীন ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে গাজিয়াবাদের এক বাসিন্দা নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগে রুচিকা সিংয়ের নাম উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ধারা ৩৫২ (ইচ্ছাকৃত অপমান করে শান্তিভঙ্গের উসকানি দেওয়া), ৩৫৩(১) (জনসাধারণের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে এমন বিবৃতি প্রদান) এবং ৩৫৬(১) (মানহানি)-এর অধীনে একটি জিরো এফআইআর রেজাস্টার করেছে। এই ঘটনাটি যেহেতু দিল্লিতে ঘটেছে, তাই পরবর্তী তদন্তের জন্য জিরো এফআইআরটি দিল্লি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বিক্ষোভের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। এরপর পুলিশ রুচিকা সিংকে শনাক্ত করে এবং নয়ডায় তাঁর ঠিকানা খুঁজে বের করে। দিল্লি ও নয়ডা পুলিশের দল তাঁর আবাসনে গিয়ে সোসাইটির কর্মীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে।
এদিকে, স্যালনের মালিক শালিনী এর আগে দাবি করেছিলেন যে, রুচিকা সিং স্যালনে অস্থায়ীভাবে এসেছিলেন এবং সেখানে কর্মরত একজনের কাছ থেকে কাজ শেখার জন্য এসেছিলেন। তাঁর দাবি, রুচিকা কোনও পরিচয়পত্র জমা দেননি এবং পরে তাঁকে স্যালন ছেড়ে যেতে বলা হয়। শালিনীর আরও দাবি, রুচিকা স্যালনের রেজিস্টারে ‘মেনশিল’ (Menshil) নামে নিজের নাম নথিভুক্ত করতেন।
নিজের পরিচয় দিতে ইনস্টাগ্রামের নাম ব্যবহার করতেন রুচিকা সিং:
যে স্যালনে রুচিকা সিং কাজ করতেন, সেই স্যালনের মালিকের দাবি, রুচিকা নিজের আসল নামের পরিবর্তে ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলের নাম ব্যবহার করে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং কখনও আধার কার্ড জমা দেননি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগে রুচিকা সিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
বিক্ষোভের পর থেকে আর দেখা যায়নি:
রুচিকা সিংয়ের খোঁজে পুলিশের তল্লাশি অব্যাহত থাকলেও, নয়ডার যে আবাসনে তিনি থাকতেন, সেই আবাসনের বাসিন্দা ও নিরাপত্তারক্ষীরা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকে তাঁকে আর সেখানে দেখা যায়নি।
নিরাপত্তারক্ষীরা, যারা দাবি করেছেন যে তাঁরা রুচিকা সিংকে চিনতেন, জানান তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে ওই আবাসনেই থাকতেন। তবে বেশ কিছুদিন ধরে রুচিকাকে সেখানে দেখা যাচ্ছে না। তাঁরা আরও জানান, রুচিকা ছাত্রী ছিলেন নাকি কর্মজীবী— সে সম্পর্কে তাঁদের কাছে কোনও তথ্য নেই।