নয়াদিল্লি: টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর (TISS)সমাবর্তন অনুষ্ঠান বাতিল হল। ২ অগাস্ট সমাবর্তন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। দু’দিন আগে বাতিল করা হল সেই অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে আসার কথা ছিল দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের। পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখাতে পারেন আঁচ করেই সমাবর্তন অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল বলে দাবি করছেন পড়ুয়া এবং আধিকারিকদের একাংশ। (TISS Postpones Convocation)
TISS-এর তরফে যদিও সমাবর্তন অনুষ্ঠান বাতিলের কারণ জানানো হয়নি। পড়ুয়াদের তারা জানায়, ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি’ তৈরি হওয়াতেই এমন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রধান বিচারপতিকে প্রধান অতিথি করার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের কোনও যোগ রয়েছে বলে জানায়নি তারা। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম সম্পর্কে অবগত পড়ুয়া এবং শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, প্রধান বিচারপতিকে ঘিরে বিক্ষোভ হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা দেখা দেয়। তার দরুণই দু’দিন আগে সমাবর্তন অনুষ্ঠান বাতিল করা হল। (CJI Surya Kant)
আরও পড়ুন: মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, একাধিক ধারায় মামলা তরুণীর বিরুদ্ধে, ককরোচ জনতা পার্টি বলল…
শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠানো বার্তায় টিআইএসএস (TISS) শুধুমাত্র “অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি”-র কথা উল্লেখ করেছিল এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তকে প্রস্তাবিত সফরের সাথে যুক্ত করেনি; তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের মতে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) আন্দোলনের সাথে জড়িত বিক্ষোভের কারণে অনুষ্ঠানটি ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল। এই আশঙ্কার কারণেই অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে কি না, তা ‘ইন্ডিয়া টুডে’ স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
শেষ মুহূর্তে সমার্তন অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পড়ুয়ারা। মা-বাবা যাতে আসতে পারেন, তার জন্য় টিকিট কেটে রেখেছিলেন তাঁরা। তাঁদের থাকার ব্যবস্থাও করে ফেলেছিলেন। TISS-এর বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত। অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সকলের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।” কিন্তু নির্দিষ্ট কারণ খোলসা করেনি তারা।
বিভিন্ন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনের রেশ রয়ে গিয়েছে এখনও। CJI এলে, তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা ছিল পড়ুয়াদের একাংশ। অনুষ্ঠানের আগে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করে দেখে যায় পুলিশও। শেষ পর্যন্ত সমাবর্তন অনুষ্ঠানই বাতিল করে দেওয়া হয়। TISS জানিয়েছে, যত শীঘ্র সম্ভব অন্য দিন সমাবর্তনের আয়োজন করা হবে। তার জন্য অপেক্ষা না করে পড়ুয়ারা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া মেনে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারেন।