ভিডিয়োতে নিজেকে ১৫ বছরের বলে দাবি করে ওই কিশোরী জানায়, বন্ধুদের সঙ্গে সে কনট প্লেসে গিয়েছিল, যেখানে একটি বিক্ষোভ চলছিল। সেখানে উপস্থিত কয়েকটি গোষ্ঠী প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর স্লোগান দিচ্ছিল। তাদের প্রভাবে পড়েই সেও একই ধরনের মন্তব্য করে ফেলে।
ভিডিয়োতে কিশোরী বলে, “আমি মাত্র ১৫ বছরের। আমি যা করেছি, তা ক্ষমার যোগ্য নয়। এটাই আমার প্রথম ও শেষ ভুল। ভবিষ্যতে আর কখনও এ ধরনের কথা বলব না বা পোস্ট করব না। আমি গোটা দেশের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। আমি খুব লজ্জিত। সবাই আমাকে ক্ষমা করুন।”
এই ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও প্রকাশ্যে আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তার কয়েক ঘণ্টা পর। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যন্তর মন্তরের ঘটনাটি দেশ ও বিশ্বের মানুষ দেখেছে। কিছু বিভ্রান্ত যুবক এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনও সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা তাঁকে এবং তাঁর প্রয়াত মাকেও কটূক্তি করেছে।
তবে কঠোর শাস্তির দাবি না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলা ও যৌবনে ভুল হতেই পারে এবং সেই ভুল থেকে শেখার সুযোগও থাকা উচিত। তিনি জানান, তিনি ওই যুবকদের ক্ষমা করে দিতে চান এবং সমাজকেও তাঁদের সঠিক পথ দেখানোর আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, আদালতের মামলা বা পরিবারের হয়রানি সমস্যার সমাধান করবে না।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্যের মাধ্যমে সাংবিধানিক পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্য ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২, ৩৫৩(১) এবং ৩৫৬(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিশোরী তার মায়ের সঙ্গে নয়ডার একটি আবাসনে থাকত। আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভের পর থেকে ফ্ল্যাটটি বন্ধ রয়েছে এবং কিশোরীকে আর দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, বিক্ষোভের আয়োজক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) কিশোরীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের বিরোধিতা করেছে। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, আপত্তিকর বা অবমাননাকর ভাষা সমর্থনযোগ্য নয়, তবে এ ধরনের মন্তব্যের জন্য ফৌজদারি মামলা করলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাঁর মতে, কেউ ক্ষুব্ধ হলে ফৌজদারি মামলার বদলে মানহানির মামলা করা উচিত।