পাকিস্তানভিত্তিক ট্যুর অপারেটর Karakoram Vision সম্প্রতি এই ফুটেজ প্রকাশ করেছে। সংস্থার দাবি, ৩০ জুলাই ব্রড পিক বেস ক্যাম্প থেকে তাদের দল তুষারধসের ঠিক আগে এই ছবি তুলেছিল। তারপরেই আসে অ্যাভাল্যাঞ্চ৷
বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিতে দেখা যায়, এক সারিতে পর্বতারোহী ধীরে ধীরে চূড়ার দিকে এগিয়ে চলেছেন। ট্যুর অপারেটরের দাবি, ফুটেজে দৃশ্যমান আরোহীদের মধ্যে নির্মল পুরজাও ছিলেন।
ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি শেয়ার করে কারাকোরাম ভিশন জানায়, তারা নিজের চোখের সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে দেখেছে।
সংস্থাটি লিখেছে, “আমাদের দল ৩০ জুলাই এই ফুটেজ তুলেছিল, বিপর্যয় নেমে আসার ঠিক আগের মুহূর্তে। আমরা বেস ক্যাম্প থেকে দেখছিলাম এবং স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছিলাম বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা পর্বতারোহী নির্মল ‘নিমস’ পুরজাসহ ১০ জন আন্তর্জাতিক আরোহী পাহাড় বেয়ে উপরে উঠছেন।”
এরপর হঠাৎই তাদের মাথার ওপর থেকে বিশাল তুষারধস নেমে আসে। “হঠাৎই তাদের উপরের অংশ থেকে বিশাল তুষারধস শুরু হয়। তুষারের মেঘ সরে যাওয়ার পর আমরা আতঙ্কের সঙ্গে উপরের ঢালগুলোর দিকে তাকাই৷ কিন্তু তখন আর কাউকেই দেখা যাচ্ছিল না। ব্রড পিকে এটা এক বিরাট ট্র্যাজেডি।”
এই শিহরণ জাগানো ফুটেজ প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পর্বতারোহী ও অনুরাগীরা নির্মল পুরজা এবং অভিযানের অন্যান্য সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
নির্মল পুরজার প্রতিষ্ঠিত অভিযাত্রী সংস্থা Elite Exped শনিবার (১ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, “গভীর শোক ও হৃদয়বিদারক বেদনার সঙ্গে আমরা নিশ্চিত করছি যে ব্রড পিকে তুষারধসের পর নির্মল ‘নিমসদাই’ পুরজা প্রাণ হারিয়েছেন।” সংস্থাটি আরও জানায়, অভিযানের সদস্য পুর বাহাদুর গুরুং (ইউক্তা) এবং নিমা শেরপাও নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি অভিযানের অন্য সদস্যরাও বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত করা হয়।
পরে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ জানান, অভিযানে থাকা ছয়জন নেপালি আরোহী—নির্মল পুরজা, পুর বাহাদুর গুরুং (ইউক্তা), কিলি পেম্বা শেরপা (কিলু), নিমা শেরপা, নাওয়াং থিন্দু শেরপা এবং গিয়ালু শেরপা—সকলেই প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে আরও চার বিদেশি পর্বতারোহীরও মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাটিকে জাতীয় ট্র্যাজেডি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই পর্বতারোহীদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং নিষ্ঠা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।