২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভ সংক্রান্ত একগুচ্ছ মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানায়, যেখানে আইনগত ভাবে সম্ভব, সেখানে রাজ্য সরকার চাইলে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার বা বন্ধ করতে পারে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণে বিক্ষোভ-সংক্রান্ত একাধিক মামলায় অভিযুক্ত পড়ুয়াদের স্বস্তি মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগের নির্দেশের ব্যাখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পরই স্পষ্ট করে দেয় আদালত। বিশেষ করে, ছাত্রদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা আদালতের বিবেচনাধীন স্বস্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই রাজ্য সরকারগুলির এমন মামলা প্রত্যাহার বা বন্ধ করার ক্ষমতা রয়েছে।
একই সঙ্গে আদালত আগের নির্দেশে ব্যবহৃত ‘অপরাধমূলক পূর্ব ইতিহাস’ (Criminal Antecedents) শব্দবন্ধের পরিধিও স্পষ্ট করেছে। আদালত জানিয়েছে, এই শব্দবন্ধ শুধুমাত্র খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাসবাদ বা অন্যান্য গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফলে সাধারণ বা ছোটখাটো অভিযোগে অভিযুক্ত ছাত্রছাত্রীদের অপরাধমূলক পূর্ব ইতিহাস রয়েছে বলে ধরা হবে না এবং তারা আদালতের বিবেচনাধীন স্বস্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য থাকবেন।
শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, বিক্ষোভ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্যালেট গান ব্যবহারের বিষয়ে একটি বিস্তৃত নীতিমালা তৈরিরও ইঙ্গিত দিয়েছে আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, প্যালেট গান ব্যবহার করা যাবে কি না এবং গেলে কোন পরিস্থিতিতে তা ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।
উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভ এবং সেই সময় পুলিশের পদক্ষেপকে ঘিরেই এই মামলার সূত্রপাত। সুপ্রিম কোর্ট বর্তমানে পুলিশের ব্যবস্থা, ছাত্রদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ এবং কোনও বাড়াবাড়ি হয়ে থাকলে তার জন্য দায়বদ্ধতা নির্ধারণের বিষয়গুলি নিয়ে শুনানি করছে।
এর আগের শুনানিগুলিতে আদালত কেন্দ্র ও একাধিক রাজ্য সরকারের কাছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে জবাব চেয়েছিল। পাশাপাশি, কোথাও বাড়াবাড়ি হয়ে থাকলে তার দায় নির্ধারণে স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।