Last Updated:
Dolphin Video : মৃত সন্তানকে পিঠে নিয়ে কয়েকদিন ধরে সমুদ্রে ঘুরল এক মা। তাঁর এই যন্ত্রণা কাঁদিয়ে দিল সেখানে গবেষণার কাজে থাকা বিজ্ঞানীদেরও। মায়ের কষ্টে কাঁদল গোটা বিশ্ব।
নয়াদিল্লি : অস্ট্রেলিয়ার উপকূলবর্তী সমুদ্রে এক বিরল দৃশ্য। আর সেই ছবি দেখে চোখে জল গোটা বিশ্বের। এমন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে, যা অনেক মানুষকেই আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। ‘ফ্র্যাগল’ নামে একটি মা ডলফিনকে কয়েক দিন ধরে নিজের মৃত শাবককে সঙ্গে নিয়েই সাঁতরাতে দেখা গেছে।
ফ্র্যাগলের শাবকের জন্ম হয়েছিল মাত্র দুসপ্তাহ আগে। কিন্তু জন্মের কয়েকদিনের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। তবুও মা ডলফিনটি তাকে ছেড়ে যেতে পারেনি। কখনও মৃত শাবকটিকে নিজের পিঠে তুলে, কখনও সামনে ঠেলে, আবার কখনও তার পাশেই সাঁতরাতে দেখা যায় ফ্র্যাগলকে।
ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার লেশেনল্ট এসচুয়ারি এলাকায়। এই অঞ্চলে গবেষণার কাজে থাকা জিওগ্রাফ মেরিন রিসার্চ দলের সদস্যরা পুরো ঘটনাটি ভিডিও করেছেন। পরে তারা ইনস্টাগ্রামে জানায়, গত কয়েক দিন ধরেই ফ্র্যাগলকে মৃত শাবকটির সঙ্গে দেখা যাচ্ছে।
গবেষকদের মতে, ফ্র্যাগল এর আগেও চারটি শাবক হারিয়েছে। তাই শীতকালে জন্ম নেওয়া এই শাবকের বেঁচে থাকা কঠিন হবে বলে তারা আগেই আশঙ্কা করেছিলেন। কিছুদিন আগে তারা লক্ষ্য করেছিলেন, শাবকটির শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিক দ্রুত চলছিল। তখনই তাদের মনে হয়েছিল, হয়তো সে বেশিদিন বাঁচবে না।
ভিডিওতে আরও একটি হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য ধরা পড়েছে। শোকের এই কঠিন সময়ে ফ্র্যাগল একা ছিল না। তার চারপাশে আরও কয়েকটি ডলফিনকে সাঁতার কাটতে দেখা যায়। দেখে মনে হচ্ছিল, যেন তারাও ফ্র্যাগলের শোকের সঙ্গী হয়েছে।
গবেষণা দলের মতে, সেদিন সমুদ্র থেকে আসা কয়েকটি ডলফিনও স্থানীয় ডলফিনদের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিল। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার লেশেনল্ট এসচুয়ারি এলাকায় ডলফিনের সংখ্যা খুবই কম। এমনকী প্রতি বছর সেখানে নবজাতক ডলফিনও দেখা যায় না।
গবেষকদের ধারণা, এই আচরণ শোক, মাতৃত্বের বন্ধন এবং সন্তানের মৃত্যু মেনে নিতে না পারার মানসিক অবস্থার বহিঃপ্রকাশ। তাই এমন দৃশ্যকে বিজ্ঞানীরা ডলফিনের শোক প্রকাশের একটি আচরণ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন।
Kolkata,West Bengal
