Last Updated:
পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস ১৪ আগস্ট হলেও বালোচ জাতীয়তাবাদীরা কেন ১১ আগস্টকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করেন? খানেট অব কালাত, ১৯৪৭ সালের স্ট্যান্ডস্টিল চুক্তি, ১৯৪৮ সালের অ্যাকসেশন এবং বালোচিস্তান বিতর্কের ইতিহাস জানুন।
পাকিস্তান যেখানে প্রতি বছর ১৪ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে, সেখানে স্বঘোষিত “রিপাবলিক অব বালোচিস্তান” এবং বিভিন্ন বালোচ জাতীয়তাবাদী সংগঠন ১১ অগাস্টকে তাদের “স্বাধীনতা দিবস” হিসেবে পালন করবে। স্বাধীন বালোচিস্তানকে সমর্থনের আর্জি জানানো হয়েছে বিশ্বের কাছে। এই দিনটি ঘিরে বালোচিস্তানের ইতিহাস, স্বাধীনতার দাবি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।
বালোচ জাতীয়তাবাদীদের মতে, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের সময় খানেট অব কালাত (Khanate of Kalat) ব্রিটিশ ভারতের অংশ ছিল না। তাদের দাবি, কালাত একটি স্বাধীন রাজনৈতিক সত্তা ছিল এবং ব্রিটিশ ক্রাউনের সঙ্গে তার আলাদা চুক্তি ছিল। ১১ অগাস্ট, ১৯৪৭-এ ব্রিটিশ সরকার, কালাতের খান মির আহমদ ইয়ার খান এবং সদ্য গঠিত হতে চলা পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি স্ট্যান্ডস্টিল অ্যাগ্রিমেন্ট (Standstill Agreement) স্বাক্ষরিত হয়। বালোচ জাতীয়তাবাদীদের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে কালাতের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান স্বীকৃতি পেয়েছিল। এরপর কালাতের খান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা—হাউস অফ কমন্স ও হাউস অফ লর্ডস—গঠন করেন।
দেশভাগের পর কালাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বালোচ জাতীয়তাবাদীদের দাবি, ডিসেম্বর ১৯৪৭-এ কালাতের আইনসভা পাকিস্তানে যোগদানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।তবে পরবর্তী কয়েক মাসে পাকিস্তান ও কালাতের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২৭ মার্চ, ১৯৪৮-এ পাকিস্তানি বাহিনী কালাতে প্রবেশ করে। এরপর কালাতের খান ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশন-এ স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে অঞ্চলটি পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। বালোচ জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলির দাবি, এই অন্তর্ভুক্তি ছিল জোরপূর্বক এবং এর মাধ্যমে কালাতের সার্বভৌমত্ব কেড়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে পাকিস্তানের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইসলামাবাদের দাবি, আইনসম্মত অ্যাকসেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বালোচিস্তান পাকিস্তানের অংশ হয়েছে এবং জোরপূর্বক দখলের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।
বালোচ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের কাছে ১১ অগাস্ট এমন একটি দিন, যা তাদের মতে বালোচিস্তানের স্বাধীন রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক। প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী বালোচ প্রবাসী এবং বিভিন্ন সংগঠন বালোচ পতাকা উত্তোলন, সমাবেশ এবং প্রচার কর্মসূচির মাধ্যমে অধিক স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতার দাবিকে তুলে ধরেন। অন্যদিকে, ১৪ অগাস্ট, যখন পাকিস্তান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে, তখন কিছু বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন দিনটিকে ‘ব্ল্যাক ডে’ (Black Day) হিসেবে পালন করে পাকিস্তানের শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
