মার্কিন সামরিক মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্র CNN-কে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমেরিকার টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (THAAD) ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ স্টক শেষ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট (Patriot) মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরগুলোর প্রায় অর্ধেকও ইতিমধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, অস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ায় পেন্টাগনের গোলাবারুদের ভাণ্ডার “বিপজ্জনকভাবে কম” পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডাররা সতর্ক করেছিলেন।
গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুদ কমে গিয়েছে:
এই ঘাটতির কারণে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের প্রাপ্যতা নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে আমেরিকার কাছে প্রায় ৪৫২টি THAAD ক্ষেপণাস্ত্র এবং সবচেয়ে উন্নত দুটি সংস্করণের প্রায় ২,২০০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ছিল।
এদিকে, মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত কমে যাওয়ার প্রভাব নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কারণ, ওই অঞ্চলের একাধিক মার্কিন মিত্র দেশ সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
CNN-কে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আরও হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এটি অন্তত দ্বিতীয়বার, যখন শীর্ষ পর্যায়ের উপদেষ্টারা আমেরিকার গোলাবারুদের মজুত দ্রুত কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পেন্টাগনের পাল্টা দাবি:
তবে পেন্টাগন এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে ওঠা দাবি খারিজ করে দিয়েছেন। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল CNN-কে বলেন, “প্রেসিডেন্ট যে সময় এবং যে স্থানে নির্দেশ দেবেন, সেখানে অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন সেনাবাহিনীর যা যা প্রয়োজন, সবই তাদের কাছে রয়েছে।”
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্য পূরণে সশস্ত্র বাহিনীর কাছে “পর্যাপ্তেরও বেশি গোলাবারুদ, অস্ত্রশস্ত্র মজুত” রয়েছে।
এছাড়া মঙ্গলবার X-এ এক পোস্টে মার্কিন যুদ্ধসচিব পিট হেগসেথও CNN-এর প্রতিবেদনকে ভুল বলে উড়িয়ে দেন। তিনি লেখেন, “ওই খবরটি সত্য নয়, @CNN। লজ্জা হওয়া উচিত তোমাদের। ভুয়ো সংবাদমাধ্যমকে আমরা যথেষ্ট ঘৃণা করি না।”
দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতেও বড় ধাক্কা:
এর আগে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসব্যাপী যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের বিশ্বব্যাপী মজুতের অধিকাংশ উচ্চ-নির্ভুল দূরপাল্লার মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে। রয়টার্সের উদ্ধৃত সূত্রগুলির দাবি, সেনাবাহিনী তাদের আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (ATACMS) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (PrSM)-এর “প্রায় পুরো মজুতই” ব্যবহার করেছে, যা ভবিষ্যতের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র সতর্ক করে বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় রাশিয়া ও চিনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলিকে প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে আমেরিকার সক্ষমতা এর ফলে প্রভাবিত হতে পারে।
তবে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনী এখনও তাদের অস্ত্রের ভাণ্ডার পুনরায় পূরণ করার সক্ষমতা রাখে। সূত্রটির দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সংঘাতে ব্যবহৃত অস্ত্রের ঘাটতি পূরণ করতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন সামরিক রিজার্ভ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।