কলকাতা: কারও যদি মাসিক ২০ হাজার টাকাও বেতন হয়, তাহলে ১ কোটি টাকার একটা অবসরকারীন তহবিল তৈরি করা তাঁর কাছে বেশ কঠিন বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু শৃঙ্খলা, নিয়মিত বিনিয়োগ এবং দীর্ঘ সময় ধরে চক্রবৃদ্ধি হারের সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ের খোঁজে না থেকে, দ্রুত সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা SIP শুরু করাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: জুলাইয়ে ঢুকেছিল অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা, তারপর অগস্টে কেন ঢোকেনি ৩ হাজার টাকা?
সেনসেক্স বা নিফটি ৫০-র মতো ইনডেক্স ফান্ডের গড় রিটার্ন ১২ শতাংশের আশেপাশে। তাই ওই SIP থেকে বছরে ১২ শতাংশ রিটার্ন হিসাব করলে দেখা যায় কেউ যদি প্রতি মাসে মাত্র ৫ হাজার টাকা করেও বিনিয়োগ করেন, তাহলে ২৭ বছরে মোট বিনিয়োগ হয় ১৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মতো। অন্যদিকে রিটার্ন আসে ৯১ লক্ষ টাকার মতো। সব মিলিয়ে সুদে আসলে ১ কোটি ৮ লক্ষ টাকার মতো পাওয়া যায় এই বিনিয়োগ থেকে।
কেউ যদি নিজের খরচ খরচা আরও একটু নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে তিনি মাসিক ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন। এই বিনিয়োগে মাত্র ২১ বছরেই জমে যাবে কোটি টাকা। সেই ক্ষেত্রে মোট বিনিয়োগ দাঁড়াবে ২৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, রিটার্ন আসবে ৭৯ লক্ষ ১০ হাজার টাকা রিটার্ন আসে।
তবে, আরও একটা উপায় রয়েছে। যাঁরা চাকরি করেন, প্রতি বছর তাঁদের যেমন মাইনে বৃদ্ধি পায়, ঠিক একই ভাবে তাঁরা SIP-তেও বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে পারেন। প্রতি বছর যদি ১০ শতাংশ করে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে পারেন, তাহলে মাসে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করেও মাত্র ২১ বছরে মধ্যে কোটি টাকা জমিয়ে ফেলা যায়। এই ভাবে জমালে ২১ বছরে ৩৮ হাজার ৪০ টাকা জমে যায়। এর উপর রিটার্ন হিসাবে আসে আরও ৭০ লক্ষ টাকার মতো। সব মিলিয়ে ২১ বছরে ১ কোটি ৮ লক্ষ টাকা জমে যায়।
তবে, কেউ যদি ১০ হাজার টাকা প্রতি মাসে দিয়ে শুরু করেন, তাহলে আরও কম সময়ে কোটি টাকার তহবিল গড়ে ফেলতে পারবেন তিনি। হিসাবে বলছে কেউ যদি মাসিক ১০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেন ও প্রতি বছর টাকার পরিমাণ ১০ শতাংশ করে বাড়াতে থাকেন, তাহলে ১৬ বছর ৩ মাসের মধ্যে এই টাকা পরিণত হবে ১ কোটি টাকায়। এই সময়ের মধ্যে ওই তহবিলে জমে যায় ৪৪ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে রিটার্ন হিসাবে আসে প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকা।
তবে এই সমস্ত হিসাব বছরে ১২ শতাংশ সম্ভাব্য রিটার্নের ভিত্তিতে তৈরি এবং শুধুমাত্র উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বাজারের ঝুঁকির অধীন। তাই প্রকৃত রিটার্ন বাজার পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট স্কিমের পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।