নয়াদিল্লি : আবারও বিমান বিভ্রাট। আবারও তীব্র ঝাঁকুনি। তবে, এবার আর কিছুক্ষণের জন্য নয়। প্রায় ৫ মিনিট স্থায়ী হল এই পরিস্থিতি। যার জেরে ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানে ১৭ জন জখম হলেন। বুধবার এমনই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী রাম মোহন নায়ডু। তিনি এও জানিয়েছেন যে, বিমানে কী ঘটেছিল তা খতিয়ে দেখার জন্য ফ্লাইট রেকর্ডার খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ক্রু সদস্যদের দেখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “যাত্রীরা জানিয়েছেন যে প্রায় চার থেকে পাঁচ মিনিট ধরে ঝাঁকুনি বা টার্বুলেন্স স্থায়ী ছিল। সেই সময়ের মধ্যেই বিমানের ভেতরে তাঁরা আঘাত ও নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হন।” তিনি আরও জানান যে, ঘাড় ও মেরুদণ্ডের নীচের অংশে (টেইলবোন) আঘাত পাওয়ায় আহত ক্রু সদস্যদের কয়েকজনকে চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
মন্ত্রীর কথায়, “ক্রু-এর কয়েকজন সদস্যের মেরুদণ্ডের নীচের অংশে (টেইলবোন বা ককসিক্স-এর কাছে) এবং ঘাড়ে আঘাত লেগেছে। তাঁরা চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।” বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘটনার পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৩ জন যাত্রীর সবাইকেই এখন হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে চারজন কেবিন ক্রু সদস্যের চিকিৎসা এখনও চলছে। এয়ার ইন্ডিয়ার মুখপাত্র বলেন, “৫ অগাস্ট বিকাল ৩:৩০ পর্যন্ত, ৪ অগাস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট AI2379-এর ঘটনার পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৩ জন যাত্রীর সকলকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। চারজন ক্রু সদস্য চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁদের চিকিৎসা অব্যাহত আছে।”
গত জুলাই মাসেই বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায় দু’টি বিমান। মুম্বই বিমানবন্দরে একই রানওয়েতে এক্কেবারে মুখোমুখি হয়ে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের দুই বিমান। শেষ মুহূর্তে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা ATC-র নির্দেশে টেক-অফ রান শুরু করেও থেমে যায় দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। ফলে এড়ানো সম্ভব হয় সম্ভাব্য বিপর্যয়। এই বিমান নির্দিষ্ট সময় থামানো না-গেলে ভয়ঙ্কর বিপদ ঘটতে পারত। PTI সূত্রে জানা যায়, রাত প্রায় ১০টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে মুম্বই বিমানবন্দরে। শিলিগুড়ি থেকে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমানটি অবতরণের পর তখনও রানওয়ে পুরোপুরি ছাড়েনি। সেই সময় একই রানওয়ে থেকে দিল্লির উদ্দেশে ওড়ার জন্য তৈরি ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান। দুই বিমান একই রানওয়েতে বিপজ্জনক অবস্থানে চলে আসায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল দ্রুত দিল্লিগামী বিমানটিকে টেক-অফ বাতিল করার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ পাওয়ার পরই বিমানটির পাইলট ‘টেক-অফ রান’ বন্ধ করেন। এরপর বিমানটি ফিরে যায় নির্ধারিত বে-তে।