Last Updated:
Bangladesh News: শেখ হাসিনার দাবি, যে আন্দোলনের জেরে তাঁর সরকারের পতন হয়েছিল, তা আদতে কোনও ‘শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন’ ছিল না। বরং কোটা সংস্কার আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি ‘সহিংস রাজনৈতিক অস্ত্রে’ পরিণত করা হয়েছিল।
নয়াদিল্লি: ডিসেম্বরে দেশে ফেরা নিয়ে কার্যত গত বুধবার ঘোষণা করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপরেই এ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে দেখা গিয়েছে হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ও৷ বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রের’ সঙ্গে তুলনা করে উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ। বুধবার নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পরে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অবক্ষয়, রাজনৈতিক বঞ্চনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। পাশাপাশি, তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে ভারতের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যোগ দেওয়ার আগে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সজীব ওয়াজেদ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ কোনও ব্যর্থতার দিকে থাকা রাষ্ট্র নয়, এটি ইতিমধ্যেই একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, দেশে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কার্যত নেই।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ওয়াজেদের দাবি, অনুষ্ঠানের আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং দেশের বড় টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রগুলিকে এই অনুষ্ঠান কিংবা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রচার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ভারতের নিরাপত্তা প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের পূর্ব সীমান্তে ‘আরেকটা পাকিস্তান’ তৈরি করেছে। তাঁর কথায়, “ভারতের সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত এই কারণে যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভারতের পূর্ব সীমান্তে আরেকটি পাকিস্তানের জন্ম দিয়েছে।”
এছাড়াও, তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামি লিগ সরকারের আমলে কারাবন্দি বহু দাগী জঙ্গিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং হিজবুত তাহরীরসহ বিভিন্ন উগ্রপন্থী সংগঠন এখন প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, “এখনই যদি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের নতুন উৎস হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ।”
অন্যদিকে, একই অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের আন্দোলন এবং তাঁর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নিজের সরকারের ভূমিকার পক্ষে সওয়াল করেন।
New Delhi,Delhi
