নয়াদিল্লি: নিজের সবটুকু দিয়ে পড়াশোনা শিখিয়েছিলেন তিন মেয়েকে। তিন মেয়েকেই নিজের পায়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধাশ্রমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এক বাবা। শুধু তাই নয়, মৃত্যুর পর মেয়েদের একজনকেও দেখা গেল না তাঁর শেষকৃত্যে। ভিডিও কলে বাবার শেষকৃত্য দেখলেন তাঁরা। ৫১০০ টাকা দিয়ে কোনও রকমে দায় সারলেন। (Women Avoid Fathers’s Funeral)
হরিয়ানার সোনীপত থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। আদতে মুম্বইয়ের বাসিন্দা শিবচরণ রামরত্ন গুপ্ত। একসময় জামাকাপড়ের ব্যবসা ছিল। গত দু’বছর ধরে ছিলেন বৃদ্ধাশ্রমেে। স্ত্রী মীনাও তাঁর সঙ্গে বৃদ্ধাশ্রমে থাকতেন। কয়েক বছর আগে মারা যান মীনা দেবী। এবার বৃদ্ধাশ্রমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন শিবচরণও। (Viral News)
দীর্ঘ অসুস্থতার পর মঙ্গলবার রাত ৩টে বেজে ৩০ মিনিটে মারা যান শিবচরণ। বৃদ্ধাশ্রমের তরফে তিন মেয়েকে সেই খবর জানানোও হয়। কিন্তু তিনজনের কেউই সোনীপত পৌঁছতে পারেননি। তাঁদের একজন ছিলেন নেপালে, দ্বিতীয়জন উত্তরপ্রদেশে এবং তৃতীয় জন মুম্বইয়ে। শেষ পর্যন্ত ভিডিও কলে বাবার শেষকৃত্যে যোগ দেন তাঁরা। শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় বৃদ্ধাশ্রমের কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতেই।
বৃদ্ধাশ্রমের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর আনন্দ কুমার জানিয়েছেন, ফোনে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতেন শিবচরণ। কিন্তু তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ফোন আসাও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বাবার শারীরিক অবস্থা ভাল নয় বলে দিন ২০ আগেই জানানো হয়েছিল তিন মেয়েকে। কিন্তু কেউ দেখতে আসেননি। শিবচরণের মৃত্যুর পরও খবর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিন মেয়েই জানান, তাঁদের কাছে ‘সময় নেই’।
শেষ পর্যন্ত শেষকৃত্যের সময় ভিডিও কলে যোগ দেন তিন মেয়ে। নেপালে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত এক মেয়ে অনলাইন ৫১০০ টাকা পাঠান। ঠিক ভাবে বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে আবেদন জানান তিনি। বাবার শেষকৃত্যের ভিডিও চেয়ে পাঠান শিবচরণের মেয়েরা। বৃদ্ধাশ্রমে কর্তৃপক্ষের দাবি, শেষকৃত্য চলাকালীন এক মেয়ে প্রশ্ন করেন, “আর কত ক্ষণ চলবে? স্নান-খাওয়া বাকি আছে আমাদের।”
বৃদ্ধাশ্রমে কর্তৃপক্ষের দাবি, তিন মেয়েকেই শিক্ষিত করেছিলেন শিবচরণ। শিক্ষিকা হয়েছেন দুই মেয়ে। মেয়েদের নিয়ে গর্ব বোধ করতেন তিনি। বাবার চিতাভস্ম রেখে দিতে প্রথমে আবেদন জানিয়েছিলেন তিন মেয়েই। পরে ফোন করে জানান, সোনীপত যাওয়ার সময় নেই তাঁদের। তাই বৃদ্ধাশ্রমে কর্তৃপক্ষই যেন গঙ্গায় ভাসিয়ে দেন।
আগে থেকে অঙ্গদানে স্বীকৃত ছিলেন শিবচরণ। সেই মতোই চক্ষুদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে শেষবেলায় মেয়েদের কাউকে পাশে পাননি তিনি।