প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে মৃত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন সাধারণ বন্যা পরিস্থিতির কারণে প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্বনাথ ও শিবসাগর জেলায় দু’জন করে এবং গোলাঘাটে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, মরিগাঁও জেলার মায়ং রাজস্ব চক্রে শহরাঞ্চলের জলাবদ্ধতার জেরে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া উদালগুড়ি জেলা থেকে একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ধনশিরি (দক্ষিণ) নদীর জল নুমালিগড় এলাকায় এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ফলে গোলাঘাট, লখিমপুর, চরাইদেও, শিবসাগর, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, কামরূপ (মেট্রো), যোরহাট, শোণিতপুর, তিনসুকিয়া, নগাঁও, দরং, কার্বি আংলং এবং উদালগুড়ি-সহ মোট ১৪টি জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সর্বশেষ বন্যায় ৫৬৩টি গ্রামের ১ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে শিবসাগরে, যেখানে ৫৭ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যার কবলে। এরপরই রয়েছে গোলাঘাট ও যোরহাট জেলা।
প্রবল বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে পরিকাঠামোরও। DRIMS-এর তথ্য অনুযায়ী, মোট সাতটি বড় বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বনাথ জেলার ব্রহ্মাজানে পাঁচটি এবং দরং জেলার মঙ্গলদৈ এলাকায় দুটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি চরাইদেও জেলার চোলাপাথরে একটি ইস্পাতের সেতু এবং উদালগুড়ির টাংলায় একটি পায়ে চলা সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষিক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা লেগেছে। প্রায় ১৬,৯৫১ হেক্টর কৃষিজমি এখনও জলমগ্ন। এছাড়া ৩৫ হাজারেরও বেশি গবাদি পশু বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৮,৫০০ পশু, যার অধিকাংশই শিবসাগর জেলার, বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে।
শহরাঞ্চলেও জলাবদ্ধতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গুয়াহাটি-সহ কামরূপ, কামরূপ (মেট্রো), মরিগাঁও ও যোরহাটে ৭৩৪ জন মানুষ শহুরে বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসডিআরএফ ও ডিডিআরএফ-এর উদ্ধারকারী দল নৌকার সাহায্যে কামরূপ (মেট্রো)-র সাতগাঁও ও হাতিগাঁও-সহ বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা থেকে অন্তত ৮০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে গেছে। গুয়াহাটির জুরিপাড় ও অনিল নগর এলাকায় এখনও জল জমে থাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে দুর্গতদের সহায়তায় ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করেছে অসম সরকার। বর্তমানে ৪৫টি ত্রাণ শিবিরে ১২,৩৫৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ৫৯টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ৩২ হাজারেরও বেশি মানুষের কাছে চাল, ডাল, লবণ, গবাদি পশুর খাদ্য-সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে আগামী কয়েকদিন উজান এলাকায় আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নদীর জলস্তর ও বন্যা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।