অভিনয়, রাজনীতি থেকে প্রেম, থালাপতি বিজয় বরাবরই সংবাদ শিরোনামে থাকেন। কিছুদিন যাবৎ তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল অনুরাগীদের মধ্যে। কিন্তু এবার এই বিচ্ছেদ নিয়ে সামনে এল নতুন খবর।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপথি বিজয় এবং তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা বিবাহবিচ্ছেদ করছেন না। সঙ্গীতা তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাঁদের ২৭ বছরের সম্পর্ক ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে থাকায়, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁরা খবরের শিরোনামে ছিলেন। শুক্রবার শুনানির সময় সঙ্গীতা বিচারককে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, তিনি আর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাটি নিয়ে এগোতে চান না। বিজয়ের আইনজীবীরাও সঙ্গীতার এই সিদ্ধান্তে কোনও আপত্তি জানাননি।

বিচ্ছেদের আবেদনটি প্রত্যাহারের পর চেঙ্গালপট্টু আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। জানা গিয়েছে, সঙ্গীতা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই মামলার শুনানিতে যোগ দেন এবং কেন এই আবেদনটি প্রত্যাহার করলেন তার কারণও আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি জানিয়ে দেন। শ্রীলঙ্কার তামিল পরিবারের কন্যা সঙ্গীতা। তাঁর বাবা পেশায় শিল্পপতি। সঙ্গীতার বেড়ে ওঠা লন্ডনে।

সঙ্গীতা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চেঙ্গালপট্টু আদালতে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা, তাঁকে মানসিকভাবে অবহেলা করা এবং তাঁকে পরিত্যাগ করার অভিযোগ এনে মামলা করেন। তাঁর দাবি ছিল,”তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেছে এবং এই সম্পর্কটি আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।”

সঙ্গীতা তাঁর এই আবেদনে আরও দাবি করেছিলেন, ”২০২১ সালে তিনি জানতে পারেন যে তার স্বামী বিজয়ের সঙ্গে একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন।”

দিনের পর দিন তিনি মানসিকভাবে অত্যাচারিত হয়েছেন। তার প্রভাব পড়েছে দুই সন্তানের উপরেও। তিনি বিজয়ের বিরুদ্ধে পারিবারিক দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং মানসিক ও আর্থিক সহায়তা প্রত্যাহার করে নেওয়ারও অভিযোগ করেছিলেন।

এই সব কিছুর পাশাপাশি, বিচ্ছেদের আবেদন পত্রে সঙ্গীতা ভরণপোষণের পাশাপাশি চেন্নাইয়ের নীলানকারাইতে অবস্থিত পারিবারিক বাড়িতে বসবাসের অধিকারও চেয়েছিলেন। কিন্তু অবশেষে বিচ্ছেদের আবেদন তুলে নেন সঙ্গীতা। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তরাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

উল্লেখ্য, অভিনেতা বিজয় ও সঙ্গীতা ১৯৯৯ সালে বিয়ে করেন। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। জেসন সঞ্জয় নামে এক ছেলে এবং দিব্যা সাশা নামে এক মেয়ে। বিয়ের এক বছরের মাথায় পুত্রসন্তানের জন্ম দেন সঙ্গীতা। ২০০৫ সালে সঙ্গীতার কোল আলো করে আসে তাঁদের কন্যাসন্তান। বিয়ের ২৭ বছর পর তাদের সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে পড়লেও, এখন তাঁরা বিবাহবিচ্ছেদ করবেন না।

তিন দশকের কেরিয়ারে মোট ৬৯টি ছবিতে অভিনয় করে ভারতের সর্বোচ্চ উপার্জনকারী অভিনেতাদের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলেছেন তামিল অভিনেতা বিজয় থলপতি। তাঁর আসল নাম অবশ্য জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজনীতিতে যোগ দেন বিজয়। নিজের দল ‘তামিলাগা ভেটরি কাজ়াগম’ (টিভিকে) প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বর্তমানে তিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী।
Published at : 07 Aug 2026 07:59 PM (IST)