কলকাতা: অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার। একটা সময় শাহরুখ খান-জুহি চাওলার কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে আইপিএলে খেলেছেন। বাইশ গজে নতুন ইনিংস শুরু করলেন। এবং সেটাও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দেশের জার্সিতে!
মোয়েস অনরিকস। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অলরাউন্ডার পর্তুগাল ক্রিকেট দলের হয়ে নিজের আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটালেন। অনরিকস একজন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার, যিনি অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পর্তুগাল দল এখন পুরুষদের টি-২০ বিশ্বকাপের সাব-রিজিওনাল ইউরোপ কোয়ালিফায়ার সি টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে। শুক্রবার তাদের মুখোমুখি হয় ইজ়রায়েল, যেখানে অধিনায়ক অনরিকস ৬৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন।
কোয়ালিফাইং টুর্নামেন্টের এই ম্যাচে পর্তুগাল দল প্রথমে ব্যাট করে ১৬৩ রান তোলে। জবাবে ইজ়রায়েলের পুরো দল নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ৬৯ রানই করতে পারে এবং পর্তুগাল ৯৪ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায়।
অনরিকসের দারুণ অভিষেক
মোয়েস অনরিকস ৩৯ বছর বয়সে পর্তুগাল-এর হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটালেন। তিনি চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৩৯ বলে ৬৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন। এই ইনিংসে তিনি ৪টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন। ধবলকুমার নরোত্তমের সঙ্গে মিলে তিনি ৬৫ রানের পার্টনারশিপও গড়েন। দুর্দান্ত ও ঝোড়ো ইনিংসের জন্য তাঁকে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কারেও সম্মানিত করা হয়। অনরিকস ২০২১ সালের পর প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে মাঠে নামেন।
১৬৩ রানের পুঁজি হাতে নিয়ে নেমে পর্তুগালের এডওয়ার্ড ফ্লেমিং, জেরেমি মার্টিন্স এবং রাহুল কুমার হাশু ইজ়রায়েলের ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস তুলে দেন। এই তিনজন মিলে ৯ ওভার বল করে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ৭ উইকেট তুলে নেন। ইজ়রায়েলের মাত্র ৩ জন ব্যাটসম্যানই রানের হিসাবে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেন।
পর্তুগালে জন্মেছিলেন অনরিকস
মোয়েস অনরিকসের জন্ম পর্তুগালেই হয়েছিল, তবে খুব ছোট বয়সেই পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসেন। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেন। যেহেতু তাঁর জন্ম পর্তুগালে, তাই ICC-র যোগ্যতা-নিয়মের কারণে তিনি পর্তুগালের জাতীয় ক্রিকেট দলে অন্তর্ভুক্ত হন।
প্রায় ১৭ বছর আগে, ২০০৯ সালে অনরিকস অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম খেলেন। সেই সময় তিনি মাত্র ১ রান করে রান আউট হয়ে যান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৬টি ওয়ান ডে ম্যাচে তিনি ১১৭ রান করেছেন এবং ৮ উইকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে দলের হয়ে ২৪টি টি-২০ ম্যাচে তাঁর নামের পাশে ৩৫৫ রান এবং ৭ উইকেট রয়েছে।
তাঁর টেস্ট অভিষেক হয় ২০১৩ সালে ভারতের বিরুদ্ধে। অনরিকস সেই ম্যাচের দুই ইনিংসেই হাফসেঞ্চুরি করেন এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৮১ রান করে অপরাজিত ছিলেন। বল হাতে তিনি একটি উইকেটও নেন। তবে সেই ম্যাচটি টিম ইন্ডিয়া ৮ উইকেটে জিতে যায়।