সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: ভয়াবহ বিপর্যয়ে চলে গেছে মাথার ছাদ। কিন্তু খাবারের সংস্থান কোথা থেকে হবে? নেপালে প্রকৃতির ধ্বংসলীলা থেকে যারা বেঁচে গেছেন, সরকারি ত্রাণশিবিরই এখন তাদের ভরসা। বাসস্থান কেড়ে নিয়েছে ত্রিশূলী। গায়ে মলিন বস্ত্রটুকু রয়েছে। কিন্তু অন্ন? এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পেটের ভাত জুটবে কোথা থেকে? সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে নেপালের সেনা, প্রশাসন। ত্রিশূল সেনা ক্যাম্পের পাশেই খোলা হয়েছে ত্রাণ শিবির। বুধবারের বিপর্যয়ের পর, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে এই শিবির। সকাল ৭ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত ত্রাণশিবিরে মিলছে খাবার।
নেই অন্ন সংস্থান, ভরসা ত্রাণ শিবির
বিপর্যস্ত এলাকা থেকে সেনা যাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসছে তাদের খাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাত, ডাল, সোয়াবিন, স্যালাড এসব রয়েছে। ফলের জুসও রয়েছে। রসুয়া, নুয়াকোটের বিধ্বস্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা মানুষজন খাবার পাচ্ছেন এই শিবিরে। পরিজনদের খোঁজে যারা এই ত্রাণ শিবিরে আসছেন, খাবার পাচ্ছেন তাঁরাও। সোয়াবিন, আচার, স্যালাড, এই ধরণের খাবার রাখা হয়েছে এখানে, রান্নাও হয়ে এখানেই। সবাই ত্রাণশিবিরে এসেই খাওয়া দাওয়া করছেন। যাঁরা ত্রাণ নিয়ে এসেছেন, তাঁরা জানাচ্ছেন প্রথম দিনই ৬০০ জনকে খাবার বিতরণ করেছেন তাঁরা। বহু মানুষ ডোনেশন দিচ্ছেন। এমনকি যাঁরা খেয়ে যাচ্ছেন, তাঁরাও ডোনেশন দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ত্রাণশিবিরের কর্মীরা। যতদিন না উদ্ধারকাজ শেষ হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত চলবে এই ত্রাণ শিবির।
দুই মায়ের সাহসীকতার গল্প
নেপালের সর্বগ্রাসী হড়পা বান কার্যত শেষ করে দিয়েছে বহু পরিবার। তারপরও প্রকৃতির সঙ্গে ভয়ঙ্কর লড়াইয়ে জিতে গেছেন দুই মা। সন্তানকে বাঁচাতে এক কাপড়ে ঘরছাড়া হতে হয়েছে রাসুয়া জেলার সিয়াপ্রু বেসি গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণিমা তামাং ও জোৎস্না তামাং-কে। পূর্ণিমা তামাং, চার সন্তানের মা। বিপর্যয়ের সময় দেরি না করে সবথেকে ছোটটিকে বেঁধে নেন পিঠে। বাকি তিন সন্তানের হাত ধরে দৌড়তে থাকেন ওপরের দিকে। নেপালের রাসুয়ার বাসিন্দা পূর্ণিমা তামাঙ্গ বলছেন, ‘বাচ্চাদের কোনওমতে এক জায়গায় করে উপরে দৌড়লাম। সব শেষ হয়ে গিয়েছে।’ এমনই আরেক সাহসী মা জোৎস্না তামাং, ২ মাসের শিশুকে মাথার ঝুড়িতে বসিয়ে, বেঁধে নিয়ে পালিয়েছিলেন তিনি। জোৎস্না বলছেন, ‘এভাবেই ২ মাসের বাচ্চাকে নিয়ে পালিয়েছিলাম। সবাই বলল.. এত বড় বান আসছে, পালাও পালাও। দেখলাম অনেক জল ধেয়ে আসছে একসঙ্গে। পালিয়েছিলাম সন্তানকে বেঁধে নিয়ে।’