কলকাতা: সুশান্ত সিংহ রাজপুতের (Sushant Singh Rajput)-এর সহকারী, দিশা সালিয়ান (Disha Salian) হত্যা মামলায় অবশেষে বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআইয়ের এফআইআর। সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ান খুনের তদন্তে সিবিআই। গণধর্ষণ, খুন, ষড়যন্ত্র, তথ্য প্রমাণ লোপাটের একাধিক অভিযোগে এফআইআর দায়ের। সিবিআইয়ের এফআইআরে মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্বব ঠাকরের ছেলে আদিত্য, দিনো মারিয়া, সূরজ পাঞ্চোলি, রিয়া চক্রবর্তী থেকে তৎকালীন DCP বিশাল ঠাকুরের নাম। মিথ্যে তথ্য রেকর্ডের অভিযোগে SIT-র সদস্যদের নামও এফআইআরে। সবাই মিলেই তথ্য প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছিল, অভিযোগ সিবিআইয়ের এফআইআরে।
দিশা সালিয়ানের মৃত্যু-তদন্তে নয়া মোড়
সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যুর পরেই, তাঁর সহযোগী দিশা সালিয়ানের মৃত্যু তুলে দিয়েছিল একাধিক প্রশ্ন। সুশান্তের মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর সহকারীর মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, কেন এই ২টো মৃত্যু পর পর হল… তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। এমনকি দিশা সালিয়ানের মৃত্যু যে স্বাভাবিক নয়, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন তাঁর বাবাও। এই মামলায়, সিবিআই আধিকারিকেরা এদিন জানান, তদন্তের প্রয়োজনে দিশার মৃত্যুর ঘটনায়উদ্বব ঠাকরের ছেলে আদিত্য, দিনো মারিয়া, সূরজ পাঞ্চোলি, রিয়া চক্রবর্তী থেকে তৎকালীন DCP বিশাল ঠাকুরের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। সপ্তাহ ২ আগেই, এই মামলার দায়িত্ব সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছে বোম্বে হাইকোর্ট। হত্যা, গণধর্ষণ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রমাণ নষ্ট করা এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মতো ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে দিশা সালিয়ানের মৃত্যুতে।
সিবিআই আদালতের কাছে জানিয়েছে যে, তাঁরা সন্দেহ করছে ৬ বছর আগে ওই ঘটনা ঘটার সময়ে, শিবসেনা নেতা তথা রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, তাঁর পুত্র আদিত্য ঠাকরে দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। পাশাপাশি, সরকারি প্রমাণ লোপাট করা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা সহ, একাধিক তথ্য গোপন করা বা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারেন, এমন সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকায় নিয়েও তদন্ত চালানো হবে।
প্রসঙ্গত, দিশার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছিল মুম্বই পুলিশ। কিন্তু দিশার বাবা দাবি করেছিলেন, তাঁর মেয়েকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। আর এখন সেই মামলারই তদন্ত করছে সিবিআই।