Last Updated:
Profitable Farming: ফলের বাজারে এখন রাজত্ব করছে মহার্ঘ্য অ্যাভোকাডো। প্রতি পিস ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর ক্রেতা প্রচুর। লাভজনক এই চাষে ভর করে এবার নতুন ব্যবসার দরজা খুলছে চাষিদের সামনে।
শিলিগুড়ি, ঋত্বিক ভট্টাচার্য: ফলের বাজারে একের পর এক বিদেশি ফলের চাহিদা বাড়ছে। সেই তালিকায় এবার নজর কাড়ছে অ্যাভোকাডো। বর্তমানে শিলিগুড়ির রেগুলেটেড মার্কেট হয়ে খুচরো বাজারে পৌঁছচ্ছে এই ফল। বাইরে থেকে আমদানি হওয়ায় দাম তুলনামূলক বেশি হলেও ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ। ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, সঠিকভাবে বাজারজাত করতে পারলে অ্যাভোকাডো হয়ে উঠতে পারে লাভজনক ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র।
বর্তমানে শিলিগুড়ির বাজারে মূলত বাইরের রাজ্য ও বিদেশ থেকে আসছে অ্যাভোকাডো। পরিবহণের সময় ফলের গুণমান ধরে রাখতে কোল্ড চেন বজায় রাখার প্রয়োজন হয়। ফলে পরিবহণ ও সংরক্ষণের খরচ যুক্ত হয়ে বাজারদর বাড়ছে। তবে উত্তরবঙ্গেই এই ফলের চাষ শুরু হলে আগামী দিনে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বাজার তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শামীমের বক্তব্য, বর্তমানে প্রায় ৯৯ শতাংশ অ্যাভোকাডোই বাইরে থেকে আসছে। দূরবর্তী এলাকা থেকে আনার কারণে পরিবহণের খরচ এবং কোল্ড চেন বজায় রাখার ব্যয় যুক্ত হয়। তবে উত্তরবঙ্গে স্থানীয়ভাবে চাষ শুরু হলে সেই অর্থের বড় অংশ চাষিদের কাছেই থাকবে। মহারাষ্ট্র-সহ দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্য ইতিমধ্যেই দেশে অ্যাভোকাডো উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখিয়েছে। উত্তরবঙ্গেও কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে চাষিদের সঙ্গে চুক্তি করে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
অন্যদিকে, বেঙ্গালুরু থেকে আসা অ্যাভোকাডো চাষাবাদ সম্পর্কে অভিজ্ঞ কেনি সাধুর দাবি, বর্তমানে এটি চাহিদাসম্পন্ন ফলগুলির মধ্যে অন্যতম এবং জেন-জি ক্রেতাদের কাছে বিশেষ পছন্দের। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে তানজানিয়া থেকে প্রায় ২৫টি কন্টেনার অ্যাভোকাডো ভারতে আসে এবং প্রতিটি কন্টেনারে প্রায় ৪০ টন ফল থাকে। ফলে দেশে এই ফলের বাজার ও চাহিদার পরিধি যে বড়, সেই দিকটিও স্পষ্ট হচ্ছে।
সব মিলিয়ে শিলিগুড়ির বাজারে অ্যাভোকাডো এখন শুধু দামি বিদেশি ফল নয়, বরং ফল ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবেও সামনে আসছে। বাইরে থেকে আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে উত্তরবঙ্গে স্থানীয়ভাবে চাষ ও চুক্তিভিত্তিক বাজারজাতকরণ সফল হলে চাষি, ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা—তিন পক্ষের জন্যই তৈরি হতে পারে নতুন বাজার।