উত্তর- বিগ বসের ঘরে কোনও বিউটিশিয়ান থাকে না, মেয়েরা সন্না দিয়ে ভুরু প্লাক করে, waxing-এর জিনিস থাকে, সেটা ব্যবহার করে সবাই৷ আবার জীতুদা যেমন নিজের হেয়ার কালার নিয়ে এসেছিল, নিজেই ব্যবহার করত৷
প্রশ্ন- ডাক্তার থাকে কী, কিছু হলে কে চিকিৎসা করেন? যেমন দুর্নিবারের হাত মুচকে গেল, কে takecare করল?
উত্তর- ফার্স্ট এইডের ব্যবস্থা থাকে৷ সেগুলো ব্যবহার করা যায়৷ তার বাইরে ঘরের অভ্যন্তরীণ কথা বলতে পারব না৷
প্রশ্ন- রাতে শান্তিতে ঘুমোনো যায়? এত লোক দেখে, ফলে সেটা মাথায় কাজ করে না?
উত্তর- হ্যাঁ ঘুমানো যায়, ঘুমানোর পর ক্যামেরার কথা মাথায় থাকত না আমার৷ বিগ বস ঘরের ক্যামেরার সামনে আমি সবই করেছি, যেমন নাক খুটেছি, তারপর বাথরুমে গিয়ে হাত ধুয়ে এসেছি৷ যেমন আমরা বাড়িতে করি৷ এরজন্য আর আড়ালে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ত না৷ তবে যেদিন খুব কেঁদেছিলাম, সেদিন লজ্জা পেয়েছিলাম৷ ক্যামেরার থেকে লুকনোর চেষ্টা করছিলাম৷ প্রতিযোগীদের মধ্যে অনেকে ঘুমের সময় নাক ডাকত৷ চেষ্টা করতাম, ওদের আগে ঘুমিয়ে পড়তে, না হলে আওয়াজের জন্য সমস্যায় পড়তে হত৷
প্রশ্ন- কী খেতে, কে কেমন রান্না করে?
উত্তর- প্রচুর বাঁধাকপি খেয়েছি৷ একটা সবজির ঘ্যাট বানাতো সৃজলা৷ উচ্ছে তো থাকতই কারণ ও পছন্দ করে৷ আমিও তেঁতো খাই৷ আর তৈরি হত লাউয়ের ডাল, যেটা ভরতদার একদম পছন্দ করতেন না৷ ডিমও থাকত, কিন্তু দ্রুত চুরি হয়ে যেত, খুব মুশকিল ছিল….
প্রশ্ন-ওজন কমেছে?
উত্তর- হ্যাঁ, ওজন কমেছে৷
প্রশ্ন-বিগ বস ঘরে থাকার সময় বাইরের কী মিস করলে?
উত্তর- খোলা আকাশ দেখতে চাইতাম, যেটা বিগ বসের ঘরে থাকলে দেখা যায় না৷ খুব ক্ষীণভাবে পাখির ডাক শুনতে পারতাম, তাদেরকে দেখতে ইচ্ছে করত৷ মায়ের কাছে যেতে চাইতাম, কথা বলতে চাইতাম… খাওয়া দাওয়া বা ফোন কেন নেই, তাই নিয়ে কোনও আক্ষেপ ছিল না৷
প্রশ্ন- ঝিলমের কান্না নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে৷ ওকে কেউ কিছু বললে ও কাঁদছে, ও নিজেও তো কত কী বলে সকলকে? সেই নিয়ে তোমার মতামত….
উত্তর- ঝিলমের সঙ্গে তো আমি সব সময় থাকতাম না, বেরিয়ে দেখছি ও বেশ কয়েকটা কথা আমাকে নিয়েও বলেছে৷ পরে ওর ভুল ভেঙেছি৷ তবে ওকে যে ক’দিন কাঁদতে দেখেছি সে ক’দিন বাড়ির কথা বলেই কাঁদত৷ সেটা আমি বুঝতে পারতাম, তাই ওকে সান্ত্বনা দিতাম৷
প্রশ্ন- রাজবীর কেমন?
উত্তর- ওর মধ্যে প্রচুর শেডস আছে৷ মানুষ হিসেবে সে ভাল, আর নন্দিনী তো নিশ্চই ভাল মানুষ চিনতে পারে৷ ওরা ভাল থাকলেই ভাল৷ ওরা ভাল থাকুক আমি চাই৷
প্রশ্ন- সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে Interact করে কেমন লাগল?
উত্তর- একজন লেজেন্ডের সঙ্গে কথা বলেছি৷ উনি আমাকে অনেক ভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন৷ বার বার খেলতে বলেছেন৷ বলতেন যে তোমাকে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না৷ ওনার কথার মানে বুঝতে পারতাম৷ কিন্তু নিজেকে ক্যামেরার সামনে বারবার দেখানোর জন্য যে খুব খারাপ কিছু করে ফেলব, তা আমি পারতাম না৷ নিরঞ্জনকে হিপক্রিট বলেছে বলে ও বার্নার চুরি করে ফেলেছিল৷ কিছু কথা আমায় বলল বলে আমি aquaguard-র কানেকশন ভেঙে দেব না, কমোডগুলো ভেঙে দেব না, কারর কোনও ক্ষতি করতে পারব না৷ এভাবে আমি লাইমলাইটে আসতে পারতাম না৷
প্রশ্ন- কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ফলে সবসময় ফোনটা তোমার সঙ্গে থাকে, বিগ বসে ফোন ছাড়া কেমন লাগল?
উত্তর- ফোন ছাড়া কোনও সমস্যা হয়নি, এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়নি হাতে ফোন নেই৷ অনেক কাজ থাকত, রান্নাবান্না করতাম, টাস্ক থাকত, অন্য কোনও কথা মনেই আসত না৷ শুধু মায়ের কথা মনে পড়ত কারণ এমন একটা সময় মাকে ছেড়ে যেতে হয়েছিল, যখন মায়ের শরীরটা খারাপ ছিল৷ মায়ের আমাকে দরকার ছিল, সেই সময়ে বিগ বসে গেছিলাম, এই কথাটা বারবার মনে হত, খারাপ লাগত৷
প্রশ্ন- কেন সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করলে, মুখ খুললে না? ঝগড়া করলে না?
উত্তর- ঝগড়া যেখানে করার কথা সেখানে করেছি কিন্তু৷ মনামীদির হয়ে ঝগড়া করেছি৷ কারণ আমার পেশার সিনিয়র কাউকে যখন অপমান করা হচ্ছে তখন আমি কথা বলেছি৷ সেই অর্থে যেখানে ঝগড়া হচ্ছে তেমন কোনও জায়গায় আমি থাকতে পারিনি৷ ঝামেলার পরে হয়ত সেখানে এসেছি৷ ফলে ঝগড়া করার মতো বেশি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি৷
প্রশ্ন- তোমার নিজস্ব বহু ভিডিও রয়েছে যে নিয়ে এত বিতর্ক হয়েছে, কিন্তু বিগ বসে তেমন কোনও বিতর্ক তৈরি করতে পারলে না কেন?
উত্তর- বিতর্ক আমি কী তৈরি করব, আমি বিতর্কে ফেঁসেছি৷ এখানে হতে পারত৷ ধর আমায় যদি কিছু ভুলভাল খাবার দিত, তাহতে আমি নিশ্চয়ই রেগে যেতাম৷ জীবনের কিছু বেসিক জিনিস থাকে যেমন খাদ্য-অন্ন-বাসস্থান… এগুলোর উপর যদি আঘাত আসে, এগুলো নিয়ে যদি কেউ খারাপ কথা বলে তাহলে খুব দুঃখ লাগে৷
প্রশ্ন- বিগ বসের ঘরে তোমার সঙ্গে সবার ভাল সম্পর্ক, তুমি বেরিয়ে আসতেই সবার চোখে জল ছিল৷ কিন্তু কখনও মনে হয়েছে কারোর চোখের জল আসলে কুমিরের চোখের জল?
উত্তর- কুমিরের কান্না কী না বলতে পারব না, সেটা বিচার করার আমি কেউ নই৷ আমি বুঝতে পারিনি, আমার জন্য খারাপ কেউ বলেছে৷
প্রশ্ন- কে কে ভাল বন্ধু ছিল?
উত্তর- আমার ভাল বন্ধু ছিল সোনামণি, তনুশ্রী, সৃজলা, ঝিলমদি, ভরতদা… এদের সঙ্গে খুব সহজে মিশে যেতে পেরেছি৷ তবে জোর করে বন্ধুত্ব করতে হবে এমন টার্গেট নিয়ে তো বিগ বসে যাইনি৷ রাজবীরের সঙ্গে কম কথা হয়েছে৷ এবং ওর জন্য নন্দিনীর সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল৷ খারাপ বন্ধু বলব না নন্দিনীকে, ওকে অনেকদিন ধরে চিনি৷ এরাই মোটের উপর আমার কাছের মানুষ ছিল৷
প্রশ্ন- চ্যানেলের সঙ্গে তোমাদের একটা চুক্তি হয়, সেই ভিত্তিতে তোমাদের Remunaration হয়? নাকি যত সপ্তাহ থাকবে সেই হিসেবে?
উত্তর- এই কথাগুলো আমি বলতে পারব না, চুক্তি অনুযায়ী বলতে পারব না৷
প্রশ্ন- আবার ওয়াইল্ড কার্ডে ফিরে যাওয়ার কোনও ব্যাপার আছে নাকি?
উত্তর- ফিরে যাওয়া নিয়ে কোনও আপডেট নেই৷
প্রশ্ন- এত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যাবে ভেবেছিলে?
উত্তর- এত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যাব সেটা ভাবিনি৷ কিন্তু বেরিয়ে গিয়ে যে আমি প্রচন্ড আফসোস করছি তাও নয়৷ কারণ বাইরে আসার পর আমি বুঝতে পেরেছি যে বিগ বসের দর্শকদের এমন কোনও মজা আমি দিতে পারিনি যা দেখে তাঁদের খুব ভাল লাগবে৷ ফলে বেরিয়ে গিয়ে খুব আক্ষেপ হয়েছে তা নয়৷ একটা ব্যাপার ভাল হয়েছে যে মায়ের কাছে চলে এসেছি৷