Last Updated:
Earth : আজ প্রায় ১২ ঘণ্টা আলো আর ১২ ঘণ্টা অন্ধকারে কাটবে পৃথিবীর দুটি গোলার্ধের মানুষের সময়। এই বিশেষ ঘটনাকে বলা হয় ‘ইকুইনক্স’ বা বিষুব।
কলকাতা : আবহাওয়ার চক্রে বড় পরিবর্তনের সঙ্গে বদলাতে শুরু করবে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যও। বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে ঘটতে চলেছে ইকুইনক্স। এর পর থেকেই ধীরে ধীরে উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য কমবে এবং রাত দীর্ঘ হতে শুরু করবে। ভারতও এই পরিবর্তনের অংশ।
সাধারণভাবে বলা হয়, এই দিনে পৃথিবীর সর্বত্র প্রায় ১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত থাকে। তবে বাস্তবে সব জায়গায় ঠিক ১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত হয় না। এর পিছনে সূর্যের আকার এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রভাব রয়েছে।
প্রতি বছর ৩৬৫ দিনের মধ্যে এমন দুটি দিন আসে, যখন পৃথিবীর দুই গোলার্ধে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়। এর একটি ২১ মার্চ এবং অন্যটি ২৩ সেপ্টেম্বর। সেপ্টেম্বরের এই ইকুইনক্স বছরের দ্বিতীয় ইকুইনক্স। পৃথিবী নিজের অক্ষের উপর প্রায় ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে রয়েছে। সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর পরিক্রমা এবং এই অক্ষের হেলে থাকার কারণেই সারা বছর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যে পরিবর্তন হয়।
সেপ্টেম্বরে সূর্য উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে এসে বিষুবরেখা অতিক্রম করে। তাই উত্তর গোলার্ধে সেপ্টেম্বর ইকুইনক্সকে খগোলীয় শরতের সূচনা হিসেবে ধরা হয়। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধে শুরু হয় বসন্ত।
একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—দিন ও রাত একেবারে ১২ ঘণ্টা করে সমান হয় না। সূর্যের আকার এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আলোর প্রতিসরণের কারণে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের হিসেব কিছুটা পরিবর্তিত হয়। তাই আজকের দিনেও দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যকে বৈজ্ঞানিকভাবে ‘প্রায় সমান’ বলা হয়।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারতের সর্বত্র ঠিক ১২ ঘণ্টা দিন এবং ১২ ঘণ্টা রাত হবে। কারণ সূর্য একটি বিন্দু নয়, বরং একটি গোলাকার চাকতির মতো। পাশাপাশি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলোকে কিছুটা বেঁকিয়ে দেয়। ফলে সূর্যোদয় কিছুটা আগে এবং সূর্যাস্ত কিছুটা পরে দেখা যায়। উদাহরণ হিসেবে, নয়াদিল্লিতে ২৩ সেপ্টেম্বর দিনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ঘণ্টা ৭ মিনিট হতে পারে।
২৩ সেপ্টেম্বরের পর সূর্যের সরাসরি রশ্মি ধীরে ধীরে বিষুবরেখা থেকে আরও দক্ষিণ দিকে সরে যাবে। ফলে উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য কমতে এবং রাতের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকবে। ভারতও উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় এখানেও এই পরিবর্তন দেখা যাবে। ডিসেম্বরের সোলস্টিস যত এগিয়ে আসবে, ভারতে দিনের দৈর্ঘ্য আরও কম এবং রাত আরও দীর্ঘ হতে থাকবে।
