দীনেশ কুমার পোদ্দার পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রখ্যাত আলোক-পরিকল্পক (লাইটিং ডিজাইনার)৷ থিয়েটার, শাস্ত্রীয় ও সমসাময়িক নৃত্য এবং সঙ্গীতের জগতে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা তিন দশকেরও বেশি সময়ের।
তিনি ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ‘অ্যালায়েড থিয়েটার আর্টস-লাইটিং’ বিভাগে ‘সঙ্গীত নাটক একাডেমি পুরস্কার’ (২০২৪) পেয়েছেন—যা ভারতের মাননীয় রাষ্ট্রপতি শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে গৃহীত—এবং এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘সেরা আলোক-পরিকল্পক’ পুরস্কার (২০০৭), ‘এক্সেলেন্স ইন স্টেজ লাইট ডিজাইনিং’ (২০১৩), ‘ভারত নির্মাণ পুরস্কার’, তিনবার ‘উষা উত্থুপ’স স্টেজ ক্রাফট অ্যাওয়ার্ডস’ (২০১৪, ২০১৬, ২০১৮), ‘ইমা (EEMA) স্পটলাইট অ্যাওয়ার্ড’ (২০১৭) ও ‘আউটস্ট্যান্ডিং ইয়াং পার্সন অফ ক্যালকাটা’ (১৯৯৮)-সহ বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
থিয়েটার ও নৃত্য-নাট্যের জগতে আলোক-পরিকল্পক হিসেবে সুপরিচিত পোদ্দার ভারতের শীর্ষস্থানীয় বহু শিল্পী ও পরিচালকের জন্য আলোক-পরিকল্পনা করেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন নৃত্য-কিংবদন্তি পণ্ডিত বিরজু মহারাজ, গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র, বিদুষী সংযুক্তা পাণিগ্রাহী, মল্লিকা সারাভাই, তনুশ্রী শঙ্কর, গীতা চন্দ্রন, ইলা অরুণ, আস্তাদ দেবু, লুনা পোদ্দার ও শাশ্বতী সেন, সঙ্গীতশিল্পীদের মধ্যে ওস্তাদ জাকির হোসেন, ওস্তাদ আমজাদ আলি খান, পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা, পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া, শঙ্কর মহাদেবন, পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভাট, নুসরত ফতেহ আলি খান, নীলাদ্রি কুমার ও অনুষ্কা শঙ্কর; এবং নাট্যপরিচালক শ্যামানন্দ জালান, ব্রাত্য বসু ও সুমন মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তিনি আলোক-পরিকল্পনা করেছেন এবং বিভিন্ন প্রযোজনার সঙ্গে লন্ডন, আমেরিকা, জার্মানি, পোল্যান্ড, স্পেন, হল্যান্ড, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, কাতার, স্কটল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, তাজিকিস্তান ও পশ্চিম আফ্রিকায় সফর করেছেন; যার অনেকগুলোই ছিল আইসিসিআর (ICCR)-এর উদ্যোগে আয়োজিত। তাঁর কাজ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীদের—যাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং, ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ও শ্রী যোগী আদিত্যনাথ—উপস্থিতিতে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং রাষ্ট্রপতি ভবনেও প্রদর্শিত হয়েছে।
মঞ্চসজ্জা বা আলোকসজ্জা পরিবেশনের পাশাপাশি, পোদ্দার ‘ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা’, ‘ইজেডসিসি’ (EZCC) এবং ‘রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’-এর মতো প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা বিষয়ক ব্যবহারিক কর্মশালা পরিচালনা করেন; এছাড়াও তিনি ব্রিটিশ কাউন্সিল, মার্কিন কনস্যুলেট এবং কলকাতায় অবস্থিত বিভিন্ন বিদেশি কনস্যুলেটকে কারিগরি সহায়তা প্রদান করেন। শহরের বিভিন্ন দুর্গাপূজার মণ্ডপে তাঁর করা বিশদ ও নান্দনিক আলোকসজ্জার জন্যও তিনি অত্যন্ত সুপরিচিত; এর মধ্যে বেশ কিছু কাজ পুরস্কারও জয় করেছে।
এই সম্মান পেয়ে দীনেশ কুমার পোদ্দার বলেন, ” আমি খুবই গর্বিত। আলোর পথ ধরে আলোকিত আমার পথ চলা।আজ সেই পথ ধরেই এমন স্বীকৃতি যা আরো অনুপ্রাণিত করল আগামী দিনের পথ চলাকে।আমি কৃতজ্ঞ সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার এর কাছে।”