Last Updated:
অনুষ্ঠানে যেমন এই সময়ের আধুনিক গানের পরিবেশনা থাকবে, তেমন পুরোনো ধারার নানান বিষয়, নানান গান- যেমন কীর্তন, আগমনী, টপ্পা, লোকসঙ্গীত- যা কী না দুর্গা পুজোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আছে, সেসব গানেরও সগৌরব পরিবেশনা থাকবে আমাদের অনুষ্ঠানে। সব মিলিয়ে এক বহুমুখী, বিচিত্র অনুষ্ঠান।
কলকাতা: বাঙালির দুর্গা পুজো এক মহোৎসব। বাংলার নিজস্বতার সঙ্গে বহিঃবঙ্গের নানান প্রভাব মিলে মিশে এক হয়ে গেছে দুর্গোৎসবের কলেবরে। বিচিত্র রং, রূপ, আকার, ভাবরসের সমাবেশে এই উৎসব কেবল বাঙালির নয়, সমগ্র পৃথিবীবাসীর কাছে এক বিস্ময়। তাই তো দুর্গোৎসবের মধ্যেই বাংলার বিস্তৃত বহুমুখী সংস্কৃতির চিত্র সুস্পষ্ট রূপে ধরা পড়ে। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের পথ বেয়ে চলতে চলতে দুর্গা পুজো প্রাচীন জৌলুসপূর্ণ ভাব ও গম্ভীর রূপটি অনেকাংশে ঢাকা পড়েছে আধুনিকতার অভিনব জাঁকজমকে। এই আধুনিক সময়ে দাঁড়িয়ে, আধুনিকতাকে আঁকড়ে ধরে চললেও, অনুসন্ধিৎসু মন বার বার অতীতের পাতা ওলটায়। খোঁজে উৎসের সন্ধান। আর শিল্পীমন খোঁজে সমন্বয়ের পথ। ‘তব জয় গানে’ সেই সমন্বয়ের গানের সুর ধ্বনিত হতে চলেছে। এই জয়গান কেবল দেবীসত্তার জয়গান নয়, সংস্কৃতির জয়গান।
এ বছর তব জয়গানের পঞ্চমবর্ষ৷ দু’দিন ৩ ও ৪ অক্টোবর, ২০২৬ রবীন্দ্র সদনে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে উদযাপিত হবে এবছরের উৎসব। প্রথম দিন শুরুতেই মঞ্চস্থ হতে চলেছে পুজোর গান। যারা বলা যায় ক্যাসেট যুগের কিংবদন্তি তেমন চারজন শিল্পী শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপঙ্কর বাগচী, মনোময় ভট্টাচার্য ও শম্পা কুন্ডু শোনাবেন তাদের পুজোর গান এবং পুজো রেকর্ডের পুরোনো গানও। গানের গল্পে নস্টালজিক করে তুলবেন মৌনীতা চট্টোপাধ্যায়। ওই দিনের দ্বিতীয় অনুষ্ঠান মিউজিক্যাল থিয়েটার ” অকাল বোধন “, পরিচালনায় ও পরিবেশনায় সৃজন চট্টোপাধ্যায়। দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানের শুরুতে মঞ্চস্থ হবে দূর্গায়ন।দুর্গা ও দুর্গোৎসবের যে গভীর প্রভাব বাংলা সাহিত্যে সংস্কৃতিতে, শিল্পে পরতে পরতে রয়েছে তারই ক্ষুদ্র সংস্করণ দুর্গায়ণ।
এই দুর্গায়ণের মধ্যে দিয়ে বাংলার বিভিন্ন সংগীতধারা ও বাংলা সাহিত্যে যেভাবে দুর্গা ধরা দিয়েছেন বা দুর্গোৎসব ধরা দিয়েছে সেটিকে তুলে ধরার প্রচেষ্টা এই দুর্গায়নপরিবেশনায় মৌনীতা চট্টোপাধ্যায়।সংগীতে দীপান্বিতা আচার্য্য, তীর্থ ভট্টাচার্য্য, মোহন কুমার সাহা ও সৃজন চট্টোপাধ্যায়।অন্তিম অংশে পরিবেশিত হবে মহিষাসুরমর্দিনী।
মহালয়ার ভোরে রেডিও-তে মহিষাসুরমর্দিনী। এমন কোনও বাঙালি নেই যে নিজেকে এই রসাস্বাদনের থেকে বঞ্চিত রাখতে পেরেছে এবং পারবেও। রচনা- বাণীকুমার, সঙ্গীত আয়োজন ও সঙ্গীত পরিচালনা- পঙ্কজ কুমার মল্লিক এবং ভাষ্য ও চণ্ডীপাঠ- বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। এই ত্রয়ী এবং তাঁদের সঙ্গে সেই সময়ের বহু গুণী শিল্পী এই প্রযোজনাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই অবিস্মরণীয় কালজয়ী কীর্তিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই মহিষাসুরমর্দিনী অবিকৃত রূপেই এই সময়ের শিল্পীদের দ্বারা কয়্যার এবং অর্কেস্ট্রেশনের মধ্য দিয়ে মঞ্চে পরিবেশিত হতে চলেছে। সমগ্র পরিকল্পনা, পরিচালনা এবং প্রয়োগে সৃজন চট্টোপাধ্যায়, চণ্ডীপাঠে- সৃজন চট্টোপাধ্যায় এবং সঙ্গীতায়োজনে দেবর্ষি মুখোপাধ্যায়। যন্ত্রানুষঙ্গে এই সময়ের বহু বিশিষ্ট যন্ত্রশিল্পীরা এই প্রযোজনাটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। গানে রয়েছেন তৃষিত চৌধুরী , গৌরব সরকার , পায়েল কর, চন্দ্রিকা ভট্টাচার্য্য , সোহিনী মজুমদার , সৃজনের দল গান্ধবর্ম্ ও আরো সংগীতশিল্পিগণ। মৌণিতা ও সৃজন জানালেন, “এই উদ্যোগ আমাদের গত পাঁচ বছর ধরে চলে আসছে। দুর্গা পুজোর আগে পুজোর আবহ নির্মাণ করে এই উদ্যোগ।এ আমাদের বাংলার সংস্কৃতি চর্চার এক অনন্য উদ্যোগ।”
