ক্যাপ্টেন মচ্ছারকে তাঁর সাহসিকতার কথা বলার পাশাপাশি নেতানিয়াহু জানতে চান, কীভাবে তিনি এত চাপের মধ্যে বিমানের সুরক্ষিত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।
এর জবাবে মচ্ছার জানান, বাইরে থেকে ককপিটের দরজা খুলতে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা কোডের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ককপিটের ভিতর থেকে দরজাটি খোলার জন্য রয়েছে একটি সাধারণ ম্যানুয়াল টার্ন-নব। বাইরে থাকা ক্রু সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে কোড ব্যবহার করে দরজা খুলতে পারছিলেন না।
মচ্ছার বলেন, “বাইরের দিক থেকে দরজা খোলার জন্য একটি কোড প্রয়োজন। কিন্তু ভিতর থেকে দরজা খোলার একমাত্র উপায় ছিল ওই নবটির কাছে পৌঁছে সেটি ঘুরিয়ে দেওয়া। অন্য যে কোনও নবের মতোই সেটি ঘোরালেই দরজা খুলে যায়। কোনও পিনের প্রয়োজন হয় না। খুব দ্রুত নবটি ঘুরিয়ে দরজা খুলতে পেরেছিলাম। আসল বিষয় ছিল, কোনওভাবে সেখানে পৌঁছনো।”
দরজার রিলিজ মেকানিজমে পৌঁছে সেটি ঘুরিয়ে খুলে দেওয়ার পরই অপেক্ষায় থাকা ক্রু সদস্য ও যাত্রীরা দ্রুত ককপিটে ঢুকে পড়েন। তাঁরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ ফের নিজেদের হাতে নেন।
ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁর মতে, মাচ্ছরের সিদ্ধান্ত ও সাহস শুধু বিমানে থাকা ১৭০-এর বেশি মানুষের প্রাণ বাঁচায়নি, গোটা বিশ্বের কাছেই সাহসিকতার এক নজির তৈরি করেছে।
নেতানিয়াহু বলেন, “আপনি এত মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। আপনি বিশ্বের মানুষের সেই বিশ্বাসকে বাঁচিয়েছেন যে একজন সাহসী পাইলট এবং সাহসী যাত্রীরা একসঙ্গে এই অশুভ শক্তিকে পরাস্ত করতে পারেন। আপনি ইজরায়েলের নায়ক, ভারতের নায়ক, গোটা বিশ্বের নায়ক।”
এরপরই তিনি ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইজরায়েলের আসন্ন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান নেতানিয়াহু।
ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে সাধারণত দেশের নাগরিকদেরই বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়। কিন্তু নেতানিয়াহু জানান, মচ্ছারকে ইজরায়েল নিজেদের পরিবারেরই একজন হিসেবে মনে করে। সেই কারণেই তাঁকে এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে এবং তাঁর হাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উদযাপনের প্রদীপ জ্বালানোর সম্মান তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
কথোপকথনের শেষে মচ্ছারের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন নেতানিয়াহু। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে তাঁকে ইজরায়েলে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় থাকার কথাও জানান ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।