Last Updated:
Marco Rubio in India: শুল্ক ও জ্বালানি নিয়ে ভারত-আমেরিকার টানাপড়েনের মধ্যেই ১৭ অক্টোবর থেকে পাঁচ দিনের ভারত সফরে আসছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। মুম্বই ও জামনগরে ভারতীয় আধিকারিক এবং শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য চুক্তি, জ্বালানি সহযোগিতা ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে মতবিরোধের আবহে রুবিওর এই সফর ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে কি না, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
ওয়াশিংটন: শনিবার থেকে পাঁচ দিনের ভারত সফরে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। বৈঠক করবেন ভারতীয় আধিকারিক এবং শিল্পপতিদের সঙ্গে। আলোচনায় জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা, কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং বাণিজ্যিক বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব পেতে পারে। মার্কিন বিদেশ দফতর মঙ্গলবার জানিয়েছে, ১৭ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ভারত সফরে মুম্বই ও জামনগরে যাবেন রুবিও। তাঁর এই সফরে উজবেকিস্তানও রয়েছে। চলতি বছরে এটি তাঁর দ্বিতীয় সরকারি ভারত সফর।
ভারতে রুবিও সরকারের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হল, “আমেরিকা-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে মত বিনিময় করা এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।” এ ছাড়াও, বাণিজ্যিক বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে তিনি বাণিজ্য জগতের হেভিওয়েটদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে মার্কিন বিদেশ দফতরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
বাণিজ্য ও জ্বালানি সংক্রান্ত সম্পর্ক নিয়ে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতপার্থক্যের আবহেই রুবিওর এই ভারত সফর। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা নতুন করে পিছিয়ে গিয়েছে। চলতি মাসের গোড়ায় দুই দেশের আধিকারিকরাই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টা ফের থমকে গিয়েছে। রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনে, এমন দেশগুলির উপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যাতে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপাতে পারেন, সেই মর্মে আমেরিকায় একটি নতুন আইন আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার উপর চাপ বাড়াতেই এই পদক্ষেপ করতে চাইছে ওয়াশিংটন।
২০২৬ সালের গোড়ায় অল্প সময়ের জন্য রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা কমিয়েছিল ভারত। তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ফের আমদানি বেড়েছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের জেরে বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার পর থেকেই রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি আমদানি বেড়েছে। আমেরিকা ও ভারতের সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেই রুবিওর এই সফর। গত এক বছরে দুই দেশের মধ্যে শুল্ক, জ্বালানি কেনা এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি করাতে তিনি সাহায্য করেছিলেন বলে ট্রাম্পের দাবি ঘিরে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
ওমানের উপকূলের কাছে একটি জাহাজে মার্কিন সামরিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর নয়াদিল্লির সমালোচনার মুখে পড়ে ওয়াশিংটন। এর আগে গত মে মাসে ভারত সফরে এসেছিলেন রুবিও। চার দিনে চারটি শহর ঘুরেছিলেন। তাঁর এবারের সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে দুই দেশের উদ্বেগের বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতে আসার আগে উজবেকিস্তানের সমরকন্দ সফর করবেন রুবিও। সেখানে মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশ—কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং উজবেকিস্তানকে নিয়ে একটি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, ২০০-রও বেশি মার্কিন শিল্পপতিদের নিয়ে একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন রুবিও।
