মহন্ত স্বামী মহারাজের ইচ্ছাতেই এই পাঠশালা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সত্সঙ্গ দীক্ষা সম্মান মহোৎসবের সময় লেখা একটি চিঠিতে তিনি লন্ডনে অবস্থানকালে মন্দিরে সংস্কৃত বিদ্যালয় চালু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানের নামও নিজেই রেখেছেন তিনি। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই প্রায় ৩৫০ জন তরুণ শিক্ষার্থী সংস্কৃত অধ্যয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহামহোপাধ্যায় ভদ্রেশদাস স্বামী সংস্কৃত অধ্যয়নের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভগবান স্বামিনারায়ণের অনুপ্রেরণায় এই ধারার সূচনা। তিনি সন্তদের সংস্কৃত ও শাস্ত্র অধ্যয়নে উৎসাহিত করেছিলেন এবং উচ্চশিক্ষার জন্য অনেক সন্তকে কাশীতে পাঠিয়েছিলেন। ১৯৬১ সালে যোগীজি মহারাজ মুম্বইয়ে অক্ষর-পুরুষোত্তম সংস্কৃত পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১৯৭৩ সালে প্রধানস্বামী মহারাজ সারংপুরে শুরু করেন যজ্ঞপুরুষ সংস্কৃত পাঠশালা। সেই ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন মহন্ত স্বামী মহারাজ।
সংস্কৃত চর্চার পাশাপাশি শাস্ত্রীয় গবেষণাতেও এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রয়েছে। ভদ্রেশদাস স্বামী উপনিষদ, ভগবদ্গীতা এবং ব্রহ্মসূত্রের উপর সংস্কৃত ভাষায় পাঁচ খণ্ডের টীকা রচনা করেছেন। ২০১৮ সালে ভ্যাঙ্কুভারে আয়োজিত ১৭তম বিশ্ব সংস্কৃত সম্মেলনে ‘অক্ষর-পুরুষোত্তম দর্শন’কে বেদান্ত পরম্পরার অন্তর্গত একটি স্বতন্ত্র দর্শনধারা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
আধুনিক গবেষণাতেও সংস্কৃত ভাষার গুরুত্ব উঠে এসেছে। পাণিনির ব্যাকরণ পদ্ধতির নির্ভুলতা নিয়ে গণনামূলক ভাষাবিজ্ঞানে গবেষণা হয়। সংস্কৃত গ্রন্থের ভাষা প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম তৈরির কাজও চলছে। ২০১৬ সালে NeuroImage পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় বৈদিক সংস্কৃতের পেশাদার পাঠকদের মস্তিষ্কের ভাষা, স্মৃতি ও দৃশ্য প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত কিছু অংশে গঠনগত পার্থক্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের মুখস্থ অনুশীলন ও পাঠের সঙ্গে এই পার্থক্যের সম্পর্ক রয়েছে বলে সমীক্ষায় জানানো হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তরুণ পণ্ডিতেরা সংস্কৃত ভাষায় একটি বিশেষ উপস্থাপনা করেন। সেই পরিবেশনার মাধ্যমে তাঁরা মহন্ত স্বামী মহারাজের প্যারিস ও লন্ডন সফরের কথা তুলে ধরেন এবং নতুন পাঠশালা প্রতিষ্ঠার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। অনুষ্ঠানে অক্ষর-পুরুষোত্তম মহারাজের পূজা, উদ্বোধনী ফলকের পূজা এবং মহন্ত স্বামী মহারাজের হাতে মঙ্গলদীপ প্রজ্বলনের আয়োজন করা হয়।
আশীর্বচনে মহন্ত স্বামী মহারাজ সংস্কৃত ভাষায় বক্তব্য রাখেন। সংস্কৃত অধ্যয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই ভাষার জ্ঞান আগামী প্রজন্মকে অক্ষর-পুরুষোত্তম মহারাজের মাহাত্ম্য বুঝতে এবং নিজেদের আধ্যাত্মিক ভিত্তি আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করবে।
এই নতুন পাঠশালার মাধ্যমে লন্ডনের শিশু ও তরুণেরা সংস্কৃত শেখার পাশাপাশি ভারতীয় জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
BAPS স্বামীনারায়ণ সংস্থা সম্পর্কে
BAPS স্বামীনারায়ণ সংস্থা একটি আন্তর্জাতিক হিন্দু প্রতিষ্ঠান। আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সেবার পাশাপাশি সংস্কৃত, বেদান্ত এবং ভারতীয় দর্শনের অধ্যয়ন ও গবেষণাও এই সংস্থার কাজের অন্তর্গত।
সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সমবেত পাঠের আগে ৩ থেকে ১৩ বছর বয়সি ১৫,৬৬৬ জন শিশু ‘সত্সঙ্গ দীক্ষা’ গ্রন্থের ৩১৫টি সংস্কৃত শ্লোক মুখস্থ করেছিল। ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ১২,৭২৩ জন শিশু একসঙ্গে ওই গ্রন্থ পাঠ করে। এর মাধ্যমে ‘সবচেয়ে বড় সমবেত হিন্দু ধর্মগ্রন্থ পাঠ’-এর জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি অর্জন করা হয়।