Last Updated:
দুর্ঘটনার পরও উদ্ধারকাজ চলছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকারীরা।
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের পেশোয়ারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ভেঙে মৃত্যু হল অন্তত ২১ জনের। মৃতদের মধ্যে ৭ থেকে ১২ বছর বয়সি ২০ জন পড়ুয়া এবং এক শিক্ষিকা রয়েছেন। বৃহস্পতিবার পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন সূত্রে খবর।
এই ঘটনায় আরও ২১ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মহম্মদ আসিম সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির জানিয়েছেন, আল খায়ের স্কুলের ছাদ ভেঙে পড়ার সময় পড়ুয়ারা শ্রেণিকক্ষের ভিতরে ছিল। দুর্ঘটনার পর থেকেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া পড়ুয়া ও অন্যদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। ধ্বংসস্তূপের নীচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল থেকে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, স্কুলের সামনে বহু মানুষ জড়ো হয়েছেন। উদ্ধারকারীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন।
এই দুর্ঘটনায় পড়ুয়া ও শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার রাজ্যপাল ফয়সল করিম কুন্ডি। তিনি ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন এবং কী কারণে স্কুলের ছাদ ভেঙে পড়ল, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে রাজ্যপাল বলেন, নিরীহ শিশুদের প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি, আহত পড়ুয়ারা যাতে সর্বোত্তম চিকিৎসা পান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন।
ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্কুলে ছুটে যান সামিউল্লাহ নামে এক অভিভাবক। তিনি জানান, ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা আট বছরের কম বয়সি তিনটি মেয়েকে উদ্ধার করেছেন তিনি। সামিউল্লাহ জানান, সকাল ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ বাড়ি থেকে ফোন পেয়ে প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে স্কুলে পৌঁছন তিনি। ওই স্কুলে তাঁর ছয় সন্তান পড়াশোনা করে।
স্কুলের অবস্থা দেখে তিনি ভেবেছিলেন, প্রথম তলার ছাদ ভেঙে পড়ায় নীচের তলায় থাকা তাঁর ছেলেরও মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু পরে জানতে পারেন, জল খেতে ক্লাসের বাইরে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছে তাঁর ছেলে।
