শনিবার জারি করা একটি নির্দেশে ট্রাম্প ২০২৬ সালের ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট’-এর একটি ধারার উল্লেখ করেছেন। ওই ধারায় জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ক্ষমতা রয়েছে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের হাতে। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি ব্যাখ্যা করে প্রয়োজনীয় শংসাপত্র এবং প্রতিবেদন কংগ্রেসের কাছে জমা দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
নির্দেশে ওই আইনের ১১২ এবং ১১৩ নম্বর ধারার অধীনে শুল্ক, ১০২(ডি) ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ এবং বিদেশি ব্যক্তি ও সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আরও কয়েকটি বিধান শিথিল করা হয়েছে। ট্রাম্প বা বিদেশসচিব প্রয়োজন মনে করলে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত এই ছাড় কার্যকর থাকবে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ‘অত্যন্ত সফল আলোচনা’র পর আমেরিকা রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কিনবে বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, মস্কো অবিলম্বে ৩ লক্ষ টনেরও বেশি ডিজ়েল সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে। নভেম্বর মাসে এবং তারপরের মাসগুলিতেও আরও ডিজ়েল সরবরাহ করা হবে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, “হরমুজ় প্রণালীর উপর আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং রাশিয়ার জ্বালানি নিয়ে এই বড় ঘোষণার ফলে আমেরিকা তথা গোটা বিশ্বের ডিজেলের দাম রেকর্ড হারে এবং দ্রুত কমবে!”
আমেরিকার কৃষক, পশুপালক এবং ট্রাকচালকদের জন্য জ্বালানির খরচ কমানো তাঁর ‘সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার’ বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমানোর জন্য দীর্ঘ দিন ধরেই ভারতের উপর চাপ দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কমাতে নয়াদিল্লির উপর শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে রুশ জ্বালানির বাণিজ্য আমেরিকা-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের উপর বিধিনিষেধ শিথিল হলে ভারতের পক্ষে নিজেদের জ্বালানির চাহিদা মেটানো এবং আমেরিকার অতিরিক্ত বাণিজ্যিক শাস্তির ঝুঁকি সামলানো কিছুটা সহজ হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক নির্দেশের অর্থ এই নয় যে ভারতের উপর নির্দিষ্ট ভাবে আরোপিত সমস্ত শুল্ক বা বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।
ওই আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম ও ছাড়ের সাপেক্ষে রুশ পণ্যের উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক এবং রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে জ্বালানি কেনে এমন কয়েকটি দেশের পণ্য ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্যকারী সংস্থার উপর ১০০ শতাংশ শুল্কের সংস্থান রয়েছে।
নির্দেশে আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি আধিকারিককে অন্য শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন দেশ রাশিয়া থেকে কতটা অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কিনছে, তা নজরে রাখতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কোনও চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখে প্রেসিডেন্টকে রিপোর্ট দিতে হবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডিজ়েলের দাম নিয়ে উদ্বেগ
আমেরিকায় আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে ডিজ়েলের চড়া দাম ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সেপ্টেম্বরে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৬.৫২ ডলারে পৌঁছেছিল। শুক্রবারও দাম ছিল প্রায় ৬.২৮ ডলার।
ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহণ ও কৃষিকাজের খরচ বৃদ্ধি পায়। তার প্রভাব পড়তে পারে পণ্য সরবরাহের বিভিন্ন স্তরে এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কেনাকাটার খরচেও। তাই রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত ডিজেল আমদানি এবং হরমুজ় প্রণালী নিয়ে আমেরিকার অবস্থানকে জ্বালানির দাম কমানোর উপায় হিসাবে তুলে ধরেছেন ট্রাম্প।