চিনের চংকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ল্যারিয়ন-ক্লিপারটন জোনে এখনও পর্যন্ত ১১,৬৬২টি নতুন ভাইরাল গোষ্ঠী শনাক্ত করেছেন। মেক্সিকো ও হাওয়াইয়ের মাঝখানে অবস্থিত এই বিশাল সামুদ্রিক অঞ্চলটির গভীরতা প্রায় ৬,০০০ মিটার পর্যন্ত। সূর্যের আলো থেকে দূরে, অন্ধকারে ঘেরা এই জগতে কীভাবে প্রাণের বিকাশ ঘটে, তা দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের কাছে কৌতূহলের বিষয়।
সমুদ্রের নীচে লুকিয়ে থাকা সম্পদ:
এই অঞ্চলের সমুদ্রতলের উপর আলুর মতো দেখতে ধাতুসমৃদ্ধ লক্ষ লক্ষ পাথর ছড়িয়ে রয়েছে। এগুলিকে পলিমেটালিক নডিউল বলা হয়। এই পাথরগুলিতে কোবাল্ট, নিকেল ও ম্যাঙ্গানিজের মতো ধাতু রয়েছে, যা বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরিতে প্রয়োজন হয়। সেই কারণেই এই সামুদ্রিক অঞ্চলে খননকার্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ বাড়ছে। তবে এই পাথরগুলির আশপাশে এমন এক ক্ষুদ্র জগৎও রয়েছে, যার একটা বড় অংশ এখনও অজানা।
বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের তলদেশ থেকে সংগ্রহ করা ৬০টিরও বেশি নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ভাইরাসগুলির জিনগত গঠন আগে থেকে উপলব্ধ বৈজ্ঞানিক তথ্যের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। এদের প্রোটিন গোষ্ঠীগুলির মধ্যে মাত্র প্রায় ৪ শতাংশের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী ডেটাবেসে থাকা তথ্যের মিল পাওয়া গিয়েছে।
অর্থাৎ, সমুদ্রের গভীরে এখনও এমন অনেক ভাইরাস রয়েছে, যেগুলি বিজ্ঞানীদের কাছে সম্পূর্ণ অজানা। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, ব্যাপক হারে সমুদ্রের তলদেশে খননকার্য চালানো হলে সেখানকার মাটি ও পলি উঠে আসতে পারে। এর ফলে সেখানে বসবাসকারী অণুজীব এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাকৃতিক চক্রগুলির উপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানুষের জন্য কি বিপজ্জনক এই ভাইরাসগুলি?
সরাসরি বলতে গেলে, আপাতত এই ভাইরাসগুলিকে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করা হচ্ছে না। তবে সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রে এদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এই ভাইরাসগুলি অণুজীবের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং কার্বন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও সালফারের মতো উপাদানের প্রাকৃতিক চক্র বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিছু ভাইরাসের মধ্যে এমন জিনও রয়েছে, যা অণুজীবগুলিকে প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকতে সাহায্য করতে পারে।
এই আবিষ্কার আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, সমুদ্রের অতল গভীরে এখনও অসংখ্য রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, যেখানে মানুষ এখনও পৌঁছতে পারেনি।