Last Updated:
মিড টার্ম ভোটের পর মার্কিন সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৫৪টির দখল নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা৷ রিপাব্লিকানদের হাতে রয়েছে ৪৪টি৷
দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে হঠাৎই ভারতের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হতে গিয়ে কি নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? মার্কিন মিড টার্ম নির্বাচনে রিপাব্লিকানরা ধরাশায়ী হওয়ার পর ফলের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সেই সম্ভাবনার কথাই জোরাল ভাবে উঠে আসছে৷ বিশেষত ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটাররা যে ট্রাম্পের এই ভারত বিরোধী মনোভাব খুব ভাল ভাবে নেননি, ভোটের ফলে তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা৷
ফার্স্টপোস্ট-কে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে একই কথা বলেছেন অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) আমেরিকার ডিরেক্টর ধ্রুব জয়শঙ্কর৷ বিশেষত টেক্সাসের মতো আসনে ডেমক্র্যোটদের অপ্রত্যাশিত জয়ের পিছনে ভারতীয় মার্কিন ভোটারদেরই বড় অবদান রয়েছে বলে দাবি করেছেন ধ্রুব জয়শঙ্কর৷
রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য ভারতীয় পণ্যের উপরে চড়া হারে শুল্ক চাপিয়ে প্রথম নয়াদিল্লিকে প্রথম বড় ধাক্কা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ এর পর এইচওয়ান বি ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের ভারতীয় পেশাদারদেরও বিপাকে ফেলে ট্রাম্প প্রশাসন৷ সমস্যায় পড়ে উইপ্রো, টিসিএস-এর মতো ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিও৷ সবমিলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয়-মার্কিনদের ক্ষোভ বৃদ্ধির একাধিক কারণ ছিল৷
সেই সূত্র ধরেই ধ্রুব জয়শঙ্কর ভারতীয় ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের ভোট দেওয়ার প্রবণতায় পরিবর্তনের দিকটি তুলে ধরেছেন৷ তাঁর ব্যাখ্যা, আমেরিকার মোট ভোটারদের মাত্র ১.৫ শতাংশ ভারতীয় মার্কিন৷ ঐতিহ্যগত ভাবে ভারতীয় মার্কিন ভোটারদের থেকে বরাবরই উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছে রিপাব্লিক্যান এবং ডেমোক্র্যাটরা৷ দু বছর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভারতীয় মার্কিনদের মধ্যে তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের বিপুল সমর্থন পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ সেই সময় নির্বাচনে রিপাব্লিকান এবং ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনকারী ভারতীয় মার্কিনদের মধ্যে ৩০ শতাংশ মতো ব্যবধান ছিল৷ এবারের ভোটে সেই ব্যবধান বেড়ে সম্ভবত ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ হয়েছে৷ ভোটের আগে সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এসেছিল, তার ভিত্তিতেই তিনি এই দাবি করছেন বলে জানিয়েছেন ধ্রুব জয়শঙ্কর৷ ভোট পরবর্তী সমীক্ষায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলেই দাবি করেছেন তিনি৷
টেক্সাসের মতো আসন যেখানে রিপাব্লিকানরা শক্তিশালী ছিল, সেখানেও ভারতীয় মার্কিনদের ভোটই ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে দাবি করেছেন জয়শঙ্কর৷ টেক্সাসের মতো আসনেও শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন রিপাব্লিকানদের হারিয়ে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী৷
পাশাপাশি, মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার পর ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায়, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে৷ জয়শঙ্কর মনে করিয়ে দিয়েছেন, সংসদের স্বতন্ত্র ক্ষমতা থাকলেও বিদেশ নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা থাকে৷
বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন সংসদের কাছে ইজরায়েলের মতো দেশের সঙ্গে বিদেশ নীতি কী হবে, তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন জয়শঙ্কর৷ তুলনায় ভারতের স্বার্থরক্ষা মার্কিন সংসদের কাছে কম অগ্রাধিকার পাবে বলেই মনে করছেন তিনি৷ ফলে আগামী দু বছর ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন আমেরিকার ভারত নীতিতে খুব বেশি পরিবর্তন আসবে না বলেই মনে করছেন ধ্রুব জয়শঙ্কর৷
