Last Updated:
কেরলে জন্ম, মাত্র ৬ বছর বয়সে আমেরিকায় পাড়ি। এবার লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে জয়ী নিথিয়া রমণ। কে এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেত্রী? জানুন তাঁর পড়াশোনা, কর্মজীবন ও রাজনৈতিক উত্থানের কাহিনি।
লস অ্যাঞ্জেলস: মিড টার্ম নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়েছে রিপাবলিকানরা। দিকে দিকে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। আর এর মাঝেই লস অ্যাঞ্জেলসে মেয়র পদে জয়ী হলেন নিথিয়া রমণ। কেরলে জন্ম হওয়া নিথিয়া ওই শহরের প্রথম এশিয়ান-আমেরিকান মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হলেন। তাঁর নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী কারেন কারেন বাস-কে হারিয়ে এই জয় ছিনিয়ে নেন নিথিয়া।
সূত্রের খবর, ভোট শতাংশের হিসাবে নিথিয়া পেয়েছেন ৫১.১% অন্যদিকে কারেন পেয়েছেন ৪৮.৩৩%।
ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, কারেন বাসের মেয়াদকালে একের পর এক দাবানল, বেকারত্বে প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। একইসঙ্গে রাস্তার গর্ত মেরামতি এবং রাস্তার আলো মেরামতিতে গড়িমসির কারণেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে।
তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে নিত্যা রমন সাশ্রয়ী জীবনযাপন এবং পুরসভার পরিষেবার উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক প্রচার অভিযান চালান। তাঁর প্রচারে নতুন গতি আসে যখন লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রথম এশীয়-আমেরিকান সিটি কন্ট্রোলার কেনেথ মেহিয়া তাঁকে সমর্থন জানান।
নিথিয়া রমণ ও মেহিয়া একসঙ্গে একাধিক প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁদের প্রচারের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বর্তমান মেয়র কারেন বাসের অন্যতম প্রধান গৃহহীনদের বাসস্থানের কর্মসূচি। নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে নিথিয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে আবাসন নীতি এবং পুরসভার পরিষেবার খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোটারদের আস্থা অর্জনে সাহায্য করে।
এবার ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ কয়েক বছর লস অ্যাঞ্জেলেসের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ২০২৮ সালের অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্বও সামলাতে হবে তাঁকে।
কে এই নিথিয়া রমণ?
১৯৮১ সালে কেরলে জন্ম নিথিয়া রমণের। মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় পাড়ি দেন। পরবর্তীকালে ২২ বছর বয়সে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
নিথিয়া রমণ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT) থেকে নগর পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি ‘ট্রান্সপারেন্ট চেন্নাই’ নামে একটি নগর গবেষণা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংস্থার মূল লক্ষ্য ছিল শহরের নিকাশি ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো।
২০১৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে আসার পর তিনি শহরের প্রশাসনিক আধিকারিকের দফতরে কাজ করেন। পাশাপাশি ‘SELAH Neighborhood Homeless Coalition’ নামে একটি সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও ‘Time’s Up Entertainment’-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
