কলকাতা: মিটেছে নির্বাচন। রাজ্য জুড়ে এবারের নির্বাচনে কোনও মানুষের প্রাণহানি হয়নি। গত কয়েক বছরে যে ছবি একেবারেই দেখা যায়নি, এবারে সেই ছবি তৈরি করে ভোট করিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই কারণেই ভোট পড়েছিল ৯০ শতাংশের বেশি। কিছু কিছু কেন্দ্রে তো ভোট শতাংশ ৯৫ শতাংশও পেরিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শান্তিপূর্ণ এই নির্বাচন শেষে কী বলছেন নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত?
আরও পড়ুন: অঙ্গ ও কলিঙ্গের পর এবার বঙ্গ জয় বিজেপির, নেপথ্য নায়ক কারা?
এই আইএএস অফিসার বলছেন, এবারের এই শান্তিপূর্ণ ভোট করিয়ে স্যাটিসফায়েড তিনি। তিনি বলছেন, “শান্তিপূর্ণ ভোট ও গণনার কারণে আমি স্যাটিসফায়েড। প্রথমের দিকে SIR নিয়ে যে সমস্যা হয়েছিল। যেখানে প্রচুর মানুষ অসুবিধার মধ্যে পড়েছিলেন। সেই সময় নির্বাচন কমিশনের প্রচুর সমালোচনও হয়েছিল। সেখান থেকে বেরিয়ে আমরা যে নির্বাচনটা শান্তিপূর্ণ ভাবে করতে পেরেছি, এটা একটা বিরাট স্যাটিসফ্যাকশনের জায়গা।”
এবারে তো হল শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। আগামীতে কী হবে? কী বলছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত? তাঁর মতে, “আমার মনে হয় মানুষ যে ভাবে ভয় হীন ভাবে ভোট করবে। আমরা প্রথম থেকেই বলেছি, বাংলার নির্বাচনের যে সংস্কৃতি, সেটার বদল দরকার। সেই বদল বাংলার মানুষ করে দেখালেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই সিদ্ধান্তগুলো সহয়ক হয়েছে। কিন্তু এটাকে মানুষের জয় বলা যায়। ভয়কে জয় করে এত মানুষ ভোট দিতে এসেছেন।”
আরও পড়ুন: জোড়াফুল ‘উপড়ে ফেলে’ শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুর ৭৩ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে ফুটল পদ্ম!
তিনি এর পর যোগ করেন, যে একটা মন্ত্র তাঁরা প্রথম থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন। কী মন্ত্র? “এখানে যাঁরা ভোটের সময় সন্ত্রাস করেন, গোলমাল করে, তাদের জন্য একটাই মন্ত্র, হয় ঘরে থাকো, নাহলে শ্রীঘরে থাকো”, বলছেন আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্ত।
এবারের নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ কতটা ছিল? সুব্রত গুপ্ত বলছেন, “চ্যালেঞ্জ তো অনেকটাই ছিল। এখানে যখন আসি, তখন SIR প্রক্রিয়া প্রায় ১ মাস পেরিয়ে গিয়েছে। তখন একাধিক সমস্যা হচ্ছিল। তখন মনে হয়েছিল, এটা ঠিক ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে কি না। পরবর্তীতে এটা সুপ্রিম কোর্টে চলে যাওয়ায় ও তারপরও পরে হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে আসার পর একটু সমস্যা হয়েছিল। প্রশাসনের উপর মানুষের ভরসা বেশ কিছুটা প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছিল। সেই কারণেই বেশ কিছু পদক্ষেপ করতে হয়েছিল। কারণ, বেশ কিছু জায়গায় দেখা গিয়েছিল নিরপেক্ষ ভাবে কাজ হচ্ছে না। সেই সব জায়গায় কিছু পদক্ষেপ করতে হয়েছিল নির্বাচন কমিশনকে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আধিকারিকদের মধ্যেই নিয়ম শৃঙ্খলা নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তবে, আমার ধারণা, পুরোটা বদল করতে না পারলেও প্রশাসনের মধ্যে অনেকটাই শৃঙ্খলা নিয়ে আসা গিয়েছিল।”