কলকাতা : বিপুল ভোট পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়ছে বিজেপি। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় জেলায় গেরুয়া ‘ঝড়’। আর সেই ঝড়ে বিধ্বস্ত তৃণমূল কংগ্রেস। ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষে মোদি সরকার যে পরিকল্পনা করেছিল, তাতে সঙ্গে দিয়েছে বাংলার মানুষ। আর এর ফলেই ১৫ বছর পর পরিবর্তনের হাওয়া বয়েছে বাংলায়। কিন্তু তৃণমূলের এই হার নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি আঙুল তুলেছেন বিজেপি ও কমিশনের দিকে। পাশাপাশি আঙুল তুলেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকেও। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে গুন্ডা বাহিনী বলে আক্রমণ শানালেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গলায় শোনা গিয়েছিল, ‘বাংলায় পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে’। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হল বিজেপির। গোটা রাজ্য এখন গেরুয়াময়। বিজেপির বহুকাঙ্খিত এই জয় খুব সহজেই কিন্তু আসেনি। বহু লড়াই ও পরিশ্রমের পর এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন অন্য কথা। তৃণমূলের এই হার নাকি পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়েও ভয়ঙ্কর অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন – ‘১০০টিরও বেশি আসন লুঠ’ ! ভয়ঙ্কর অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, কী জানালেন ?
কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”আমি যখন প্রথম জিতেছিলাম, বলেছিলাম কারোর উপর যেন অত্যাচার না হয়। বদল চাই, বদলা নয়। আমরা কিন্তু CPM-এর একটা পার্টি অফিসে হাত দিইনি। আমি রবীন্দ্র সঙ্গীত ও নজরুল গীতি গাইতে দিয়েছিলাম। আর ৩ দিন ধরে বিজেপি যে অত্যাচার করছে, CRPF, এরা জওয়ান বাহিনী নাকি গুণ্ডা বাহিনী। আমি আমার নিজের কেন্দ্রে দেখেছি এই অভিজ্ঞতা, ১০০ জনকে মেরে তাড়িয়েছিল। যারা জিতেছিল।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পর ফের শোরগোল পড়ে যায় রাজ্য রাজনীতিতে। যদিও তিনি সোমবার ভোট লুঠের কথা ও তাঁর উপর অত্যাচার-এর কথা জানিয়েছিলেন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে। তৃণমূল নেত্রী ভোট গণনার দিন জানিয়েছিলেন, “বিজেপি ১০০টিরও বেশি আসন লুঠ করেছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপিরই কমিশন। আমি সিও (CO) এবং মনোজ আগরওয়ালের কাছেও অভিযোগ করেছি, কিন্তু তাঁরা কিছুই করছেন না। আপনারা কি মনে করেন এটা একটা জয়? এটা একটা অনৈতিক জয়, নৈতিক জয় নয় এটা। নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একসঙ্গে মিলে যা কিছু করেছেন, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। এটা শুধু লুঠ, লুঠ, লুঠ। আমরা ঘুরে দাঁড়াবো।”