তিনি আরও জানান, ‘‘আমি তাড়াতাড়ি হাইড্রেন্ট বের করলাম আর উপরে দৌড় দিলাম। তখন আগুন চারতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। আমরা সবাই মিলে সঙ্গে সঙ্গে জল চালু করলাম আর আগুন নেভানোর কাজে লেগে গেলাম। সেখানে আগেই কিছু লোক চেষ্টা করছিল, কিন্তু আগুন খুব দ্রুত ছড়াচ্ছিল। আসলে, সেখানে গত ৪-৫ বছর ধরে কাজ চলছিল আর অনেকবার বলার পরও নিরাপত্তার ব্যবস্থা ঠিকমতো করা হয়নি। অনেক জিনিসপত্র পড়ে ছিল—যেমন কাঠ ইত্যাদি… এতে আগুন আরও বেড়ে গেল। এই কারণে অনেক ক্ষতি হয়েছে।’’
‘‘ভগবানের কৃপায় এই ঘটনায় কারও প্রাণ যায়নি। আমার কথা বলতে গেলে, আমি সিকিউরিটি আর সেফটি ইকুইপমেন্টসের ব্যবসায় আছি আর বেশিরভাগ সরকারি দফতরের সঙ্গে কাজ করি, তাই আমি জানতাম এমন এমার্জেন্সিতে কী করতে হয়। আগুন খুব দ্রুত ছড়াচ্ছিল, তাই আমি সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিলাম ৷ হাইড্রেন্ট ভাঙলাম আর সময় নষ্ট না করে সেটা চালু করে আগুন নেভানোর কাজে লেগে গেলাম…৷’’ প্রচুর মানুষের প্রাণ বাঁচানো ‘অজয় শর্মা’ নিজের চোখে দেখা পুরো ঘটনা এদিন একনাগাড়ে বলে চলেন।
দিল্লির পাশে গাজিয়াবাদের ইন্দিরাপুরম এলাকার গৌর গ্রিন সোসাইটিতে বুধবার সকালে ফ্ল্যাটে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। আগুন লাগার পর স্বভাবতই হুলস্থুল পড়ে যায়। ৯ তলা একটি ফ্ল্যাটে মানুষ ধোঁয়া উঠতে দেখে। সঙ্গে সঙ্গে দমকল বিভাগকে খবর দেওয়া হয়। দমকলের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজে লেগে পড়ে। জানা যাচ্ছে, আগুন ছড়িয়ে ৯টি ফ্ল্যাট পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আগুনের ধোঁয়া দিল্লি-মেরঠ এক্সপ্রেসওয়ে থেকেও দেখা গিয়েছে।
আগুন কখন লাগে?
গাজিয়াবাদে বুধবার সকাল ৮.৩০-এ গৌর গ্রিন অ্যাভিনিউ সোসাইটির বিল্ডিংয়ে ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুন ১৫তলা বিল্ডিংয়ের নবম তলার ফ্ল্যাটে লাগে। দেখতে দেখতে আগুন উপরের ৩-৪ তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের বড় বড় শিখা উঠতে থাকে। আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ধোঁয়ার কুয়াশা প্রায় ২ কিমি দূর থেকেও দেখা যাচ্ছিল।
আগুন কেন লাগে?
গাজিয়াবাদের অভিজাত এলাকা ইন্দিরাপুরমে তখন হইচই পড়ে যায়, যখন গৌর গ্রিন সোসাইটিতে আগুন লাগে। শর্ট সার্কিটের কারণে বহুতল বিল্ডিংয়ের অষ্টম তলার ফ্ল্যাটে আগুন লাগে, যা ছড়িয়ে তিনতলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
কে মানুষকে বাঁচায়?
আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য করতে আসা অজয় শর্মা মানুষকে বাঁচান আর দমকল যন্ত্রপাতি চালু করেন। এই সময়ে উনি আহতও হন। জানা যাচ্ছে, প্রায় ২৫ জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য SDRF-এর টিমকেও ডাকা হয়। সোসাইটিতে থাকা মানুষেরা বলছেন, সবাইকে সময়মতো বের করে আনা হয়েছিল। কেউ আটকে পড়েনি।
মানুষ কী বলছে?
মানুষ বলছে, হাইড্রোলিক দুই ঘণ্টা পরে এসেছে আর তার জল ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে না। আগুন প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তিনদিক থেকে দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর কাজে লেগে আছে। মানুষেরা বলছে, বিল্ডার অবৈধ দখল করে রেখেছে। কোনও ফায়ার সেফটি আর ডিজাস্টার প্ল্যান নেই।
কতটা ক্ষতি হয়েছে?
ভাগ্য ভাল যে, এই সময়ে কোনও প্রাণহানি হয়নি। এই সময়ে ফ্ল্যাটে রাখা লাখ লাখ টাকার গৃহস্থালির জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।
ফায়ার ব্রিগেডের কতগুলো গাড়ি ছিল?
আগুনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দমকলের এক ডজনের বেশি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে আর লাগাতার আগুন নেভানোর কাজ চলছে। জানা যাচ্ছে, ১০.৪৫ পর্যন্ত আগুন প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
সোসাইটির ভিতর থেকে এই টাওয়ারে যাওয়ার রাস্তা খুবই সরু। আগুন ছড়ানোর একটা কারণ ছিল, ফায়ার টেন্ডার পৌঁছলেও তারা টাওয়ারের নীচে পর্যন্ত যেতে পারেনি। পাশের সোসাইটির প্রেসিডেন্ট পদ্মাকর ঝা জানিয়েছেন, আমরা যখন এখানে পৌঁছলাম, গাড়ি এখানে পর্যন্ত আসতেই পারেনি। বাস্কেটবল কোর্ট বানানো আছে। টাওয়ারের নীচে পর্যন্ত কোনও গাড়ি যেতে পারে না। সঙ্গে হাইড্রোলিকের জলও পৌঁছাযতে পারছিল না।