Last Updated:
Chandranath Rath’s Mother: চন্দ্রনাথের মা হাসি রথ ছিলেন চণ্ডীপুর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সদস্যা। ঘটনার দিন দুপুরে নিজের হাতে ছেলেকে খাইয়ে দিয়েছিলেন। ফলে তিনি আরও ভেঙে পড়েছেন।
চণ্ডীপুর: শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু ঘিরে তোলপাড় পরে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। চন্দ্রনাথের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবারে। শুধু তাঁর পরিবারে নয়, এই শোক যেন আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে ধরেছে চণ্ডীপুরের গোটা কুলুপ গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতেও।
চন্দ্রনাথের পরিবার দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আর সেই রাজনীতির ভরকেন্দ্র ছিল কাঁথির অধিকারী পরিবার। কারণ এই দুই পরিবারের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদান করলে চন্দ্রনাথের পরিবার ও বিজেপিতে যোগদান করে। চন্দ্রনাথের মা হাসি রথ ছিলেন চণ্ডীপুর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সদস্যা।
ঘটনার দিন দুপুরে নিজের হাতে ছেলেকে খাইয়ে দিয়েছিলেন। রাতের মধ্যেই সব ওলোটপালোট। সন্তানকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ! তবুও সন্তানের মৃত্যুতে যাঁরা জড়িত তাঁদের ফাঁসি চাইলেন না চন্দ্রনাথের মা, বরং মা হিসেবে সন্তানের হত্যাকারীদের যাবজ্জীবন সাজা হোক বলে দাবি করলেন শোকাতুর মা।
চন্দ্রনাথ রথের শিকড় ছিল পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে। মেধাবী ছাত্র হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল শৈশব থেকেই। পড়াশোনা শেষ করেই ভারতীয় বায়ু সেনায় যোগদান করেছিলেন চন্দ্রনাথ। শুভেন্দু অধিকারীর বাড়িতে যাতায়াত ছিল চন্দ্রনাথের। তখন বায়ুসেনার কর্মী, ছুটিতে বাড়ি এলেই শান্তিকুঞ্জে যেতেন বলে জানা গেল জেঠু হরিপদ রথের কাছ থেকে। বায়ুসেনা থেকে অবসর নেওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী হিসাবে সব সময় দেখা যেত তাঁকে। সামরিক জীবনের সেই নিয়মানুবর্তিতা তিনি তাঁর পরবর্তী কর্মকাণ্ডেও বজায় রেখেছিলেন।
শুভেন্দু অধিকারীর দৈনন্দিন সূচি, মিটিং ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে তাঁর ভূমিকা ছিল পর্দার আড়ালে থাকা কারিগররের মত। রাতে মধ্যমগ্রামের দোহরিয়া এলাকায় যশোর রোডের উপর তাঁর চলন্ত গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় মারা যান চন্দ্রনাথ।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, চন্দ্রনাথ রথ শুভেন্দু অধিকারীর শুধু একজন পিএ বা ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত বন্ধু ও পরিবারের সদস্য। বছর দুই আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মারা যান চন্দ্রনাথের বাবা ওঁকারপদ রথ। চন্দ্রনাথ বিয়ে করেনি। বাড়িতে রয়েছে মা, ভাই ও ভাতৃবধূ। চন্দ্রনাথের এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।
চন্দ্রনাথের মা হাসি রথ বললেন, ” ঘটনার দিন দুপুরে আমি নিজেই বাড়ি থেকে খাওয়ার নিয়ে গিয়ে খাইয়ে দিয়ে এসেছিলাম। ওটাই আমার সঙ্গে শেষ দেখা। বুঝতে পারিনি আর কোনও দিন ওকে ফিরে পাব না। চাইছি দোষীরা শাস্তি পাক। কিন্তু আমি তো মা, তাই ফাঁসি চাইছি না। ওদের যেন যাবজ্জীবন হয়। গাড়ি দুর্ঘটনা বা অন্য কোনও দুর্ঘটনায় মারা গেলে এত কষ্ট হত না।”
প্রসঙ্গত চন্দ্রনাথের মৃত্যুর দিন দুপুরেই তাঁর মায়ের সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল। মায়ের রান্না করা খাবার দিয়েই মধ্যাহ্নভোজ সেরেছিল সেদিন চন্দ্রনাথ। আর ঐদিনই দুষ্কৃতীর গুলিতে প্রাণ হারায় বছর চল্লিশের চন্দ্রনাথ। এই ঘটনায় চন্দ্রনাথের পরিবারের পাশাপাশি এলাকার মানুষও ভেঙে পড়েছে।
সৈকত শী
‘নিজে হাতে ওকে খাইয়ে দিয়ে এসেছিলাম…’, দুপুরেই শেষ দেখা, জ্বলজ্বল করছে সেই মুখ, ছেলে চন্দ্রনাথের মৃত্যুতে কী বললেন শোকাতুর মা?