Last Updated:
Tea Stall : তিনি এখন এমএ পাস করা চাওয়ালা. চোখে স্বপ্ন ছিল। তবে পরিস্থিতির চাপে বর্ধমানের এই ব্যক্তি এখন নিজের চায়ের দোকান সামলান।
বর্ধমান,সায়নী সরকার: এমএ পাস করার পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর চোখেই থাকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। আমিরুলের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ছিল না। কিন্তু ভাগ্য যেন তার জন্য অন্য কিছু লিখে রেখেছিল। স্নাতকোত্তর শেষ করতে না করতেই হঠাৎ মাথার ওপর থেকে সরে যায় বাবার ছায়া।
এক নিমেষেই বদলে যায় জীবনের পরিচিত সমীকরণ। পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে আমিরুলের কাঁধে। চাকরির পেছনে ছুটে সময় নষ্ট করার বিলাসিতা তখন তার ছিল না,প্রয়োজন ছিল তাৎক্ষণিক উপার্জনের। তাই পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে কোনো দ্বিধা না করে আমিরুল শুরু করেন চায়ের ব্যবসা।আজ তিনি একজন ‘মাস্টার্স পাস চা বিক্রেতা’।
বর্ধমানের গোলাপবাগ এলাকার বাসিন্দা আমিরুল আলী। মাছখান্ডা হাই স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর সিকিম স্কিলস ইউনিভার্সিটি থেকে ভূগোলে স্নাতকোত্তর পাশ করেন তিনি। মা ,বাবা আর আমিরুলকে নিয়ে ছিল ছোট সুখী পরিবার। বাবা যুক্ত ছিলেন এক্সপোর্টের ব্যবসায়। কিন্তু ২০১৮ সালে আমিরুল যখন তার মাস্টার্স শেষ করলেন, ঠিক তখনই নেমে আসে অন্ধকার। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎই মারা যান তার বাবা। পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে।
শোক সামলে নিয়ে আমিরুল বুঝতে পারেন, এখন আর বসে থাকার সময় নেই। সরকারি বা বেসরকারি চাকরির দীর্ঘ অপেক্ষার পথে না হেঁটে তিনি বেছে নেন স্বনির্ভরতার পথ। বর্ধমান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (BIT) পাশেই এক বন্ধুর সহযোগিতায় শুরু করেন একটি চায়ের দোকান, নাম দেন ‘চুমুক’।
তিনি মনে করেন কোন কাজই ছোট না আর আর ব্যবসায় স্বাধীনভাবে নিজের মতো কাজ করা যায়। বর্তমান প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে তিনি দোকানটিকে সাজিয়েছেন দারুণ আকর্ষণীয়ভাবে। সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড এবং ‘জেন-জি’ দের কথা মাথায় রেখেই দোকানে রেখেছেন ভাইরাল চা কাকুর ছবি থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাট আউট।
সমাজের তথাকথিত লোকলজ্জার তোয়াক্কা না করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সততার সঙ্গে করা কোনও কাজই ছোট নয়। আজ তিনি পরিচিত ‘মাস্টার্স পাস চা বিক্রেতা’ হিসেবে।
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal
May 08, 2026 10:49 AM IST