Last Updated:
Indian Railways: যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য রাখা চেইন এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় সমস্যার কারণ। খড়গপুর ডিভিশনে গত ৪ মাসে অকারণে চেইন টেনে ট্রেন থামানোর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ৫৫৮ জন।
খড়গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: ট্রেনের চেইন বা শিকল টানার ব্যবস্থা মূলত রাখা হয়েছে যাত্রীদের নিরাপত্তার কারণে। রেলযাত্রার সময় হঠাৎ কোনও গুরুতর বিপদ দেখা দিলে বা জীবনহানির আশঙ্কা তৈরি হলে যাত্রীরা যাতে দ্রুত ট্রেন থামিয়ে রেলকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন, সেটিই এই ব্যবস্থার প্রধান সুবিধা। চলন্ত ট্রেনে হঠাৎ কারও শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে, কামরার ভিতরে আগুন লাগলে, কিংবা চুরি-ডাকাতি বা শ্লীলতাহানির মতো কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ট্রেন থামান অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। খড়গপুর ডিভিশনের রেল আধিকারিকদের মতে, এই ব্যবস্থাটি সংকটের সময়ে চালক ও গার্ডকে সতর্ক করার একটি জীবনদায়ী মাধ্যম, যা বড় কোনও দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করে।
তবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গেছে, নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া চেইন টেনে কতিপয় দুষ্কৃতকারী ট্রেনের স্বাভাবিক যাতায়াতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ) এবং বাণিজ্যিক বিভাগের পক্ষ থেকে চালান অভিযানে গত চার মাসে বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১৪৭টি অকারণ চেন টানার ঘটনার হদিশ মেলে এবং তার প্রেক্ষিতে ১৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ফেব্রুয়ারি মাসেও ছবিটা খুব একটা বদলায়নি, সেবার ১৪২টি ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৩৩ জনকে শ্রীঘরে যেতে হয়েছে। মার্চ মাসে এই প্রবণতা কিছুটা বেড়ে ১৭৬টি ঘটনায় ১৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এপ্রিল মাসেও ১৪১টি এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং গ্রেফতার হয়েছেন ১২৬ জন। ধৃতদের বিরুদ্ধে রেল আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে জরিমানা ও শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সুবিধার পাশাপাশি অকারণে চেইন টানার অসুবিধাও অনেক এবং তা অত্যন্ত ভয়াবহ। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে, খড়গপুর ডিভিশনের বিভিন্ন স্টেশনে এক শ্রেণির যাত্রী নিজেদের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য— যেমন বাড়ির কাছে নামার জন্য কিংবা দেরি করে আসা সঙ্গীর জন্য অপেক্ষা করতে—অকারণে চেইন টেনে ট্রেন থামিয়ে দিচ্ছেন। এই সামান্য স্বার্থপরতার কারণে পিছনের সমস্ত ট্রেনের সময়সূচি ওলটপালট হয়ে যায়, যার ফলে হাজার হাজার যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে খড়গপুর লাইনের মত ব্যস্ত রুটে একটি ট্রেন অকারণে থমকে যাওয়া মানে তার প্রভাব পড়ে গোটা রেল ব্যবস্থার উপর। এর ফলে যেমন রেলের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি নষ্ট হয়, তেমনই ট্রেনের ইঞ্জিনের উপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং রেলের আর্থিক ক্ষতি হয়।
Paschim Medinipur,West Bengal
Indian Railways: খড়গপুর ডিভিশনে অ্যাকশনে আরপিএফ! ৪ মাসে গ্রেফতার ৫৫৮, জরিমানার মুখেও অনেকেই! রেল সফরে ভুলেও করবেন না এই কাজ
