Last Updated:
West Bengal Madhyamik WBBSE Class 10th Result 2026: বাবার সামান্য উপার্জনে চলে সংসার, তা সত্ত্বেও মাধ্যমিকে ৬৮৭ নম্বর পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে তমলুকের অঞ্জন চৌধুরী। মেধা থাকলেও অর্থের অভাবে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে চিন্তিত পরিবার।
তমলুক, সৈকত শী: চারদিন আগে বেরিয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। মাধ্যমিক পরীক্ষায় মাত্র এক নম্বরের জন্য মেধাতালিকায় স্থান হয়নি। সে নিয়ে যেমন খানিকটা হতাশ মেধাবী ছাত্রটি, তার থেকেও বড় বিষয় এই মেধাবী ছাত্রটির আগামী দিনের পড়াশোনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাধা। কারণ তাঁর স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। তাঁর এই স্বপ্নের পিছনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বাবার বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি। এই মেধাবী ছাত্রটির নাম অঞ্জন চৌধুরী, এ বছর তমলুকের ডিমারি হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল হয়েছে। বাড়ি শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের পশ্চিম পাকুড়্যা গ্রামে।
তমলুক থানার শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের পাকুড়িয়া পশ্চিম গ্রামের বাসিন্দা লক্ষীকান্ত চৌধুরীর সংসারে সদস্য চার জন। স্ত্রী অনিমা দেবী এবং দুই ছেলে। বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ডিমারি বাজারের ছোট্ট ব্যাগ খাতা-পেনের দোকান। সেই সামান্য উপার্জনেই চলে সংসার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে থাকেন বাবা। সংসারের টানাটানি সামলেও ছেলেদের পড়াশোনায় কখনও খামতি রাখেননি। সেই লড়াইয়েরই যেন বড় পুরস্কার পেল চৌধুরী পরিবার। বড় ছেলে অতনু চৌধুরী বর্তমানে কলকাতায় প্যারামেডিক্যাল নিয়ে পড়াশোনা করছেন। আর ছোট ছেলে অঞ্জন এ বার মাধ্যমিকে দুর্দান্ত ফল করে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছে। অঞ্জনের প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৭।
পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও পড়াশোনার জন্য চার জন গৃহশিক্ষকের ব্যবস্থা করেছিলেন বাবা-মা। স্কুলের পড়ার উপরেই সবচেয়ে বেশি জোর দিত অঞ্জন। নিয়মিত ক্লাস করা, শিক্ষকদের দেওয়া নোট পড়া এবং নিজের মতো করে বিষয় বুঝে নেওয়াই ছিল তার মূল মন্ত্র। গণিত অঞ্জনের সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। অনেক সময়ই স্কুলের লাইব্রেরি থেকেও বই এনে পড়ত সে। পড়ার বাইরে ক্রিকেট খেলতে ভালবাসলেও পরীক্ষার কয়েক মাস আগে থেকে প্রায় সব কিছুই বন্ধ করে দিয়েছিল। শুধুই পড়াশোনা আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন, চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্য।
মোবাইল পড়াশোনার কাজে ছাড়া সে ব্যবহার করত না। ফল প্রকাশের পরই তাকে ফুল মিষ্টি চকলেট দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় শিক্ষক থেকে প্রতিবেশীরা। মেধাবী ছাত্র অঞ্জন বলে, “ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় সে। কিন্তু ডাক্তারি পড়ার খরচ অনেক। তাই বাবার আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। কী ভাবে তার ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে তা নিয়েই ভাবছে অঞ্জন। ছেলের সাফল্যের আনন্দের মাঝেও ভবিষ্যৎ নিয়ে খানিক চিন্তায় বাবা লক্ষীকান্ত চৌধুরী। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে যে দীর্ঘ পথ পেরোতে হবে, তা ভালই জানেন তিনি।
Puruliya (Purulia),Puruliya,West Bengal
WB Madhyamik Result 2026: বাবার ছোট দোকান, ছেলে পড়াশুনায় তুখোড়! মাধ্যমিকে চমকপ্রদ ফলাফল করেও তমলুকের অঞ্জনের আগামীর স্বপ্নপূরণে বাধা আর্থিক অনটন