Last Updated:
Bankura News: বাঁকুড়া জেলার ওন্দার বাসিন্দা, পেশায় ভ্যানচালক গেঁড়ু বাউরী। হঠাৎ করেই একদিন পাড়ার দোকানে মজার ছলে বলে ওঠেন, “কম্পিউটার শিখব!” কথাটা শুনে সেদিন একদল যুবক উপহাস না করে, সেই স্বপ্নকে সত্যি করার চেষ্টা করেন। এখন নিয়মিত ক্লাস করেন তিনি।
বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: পেশায় ভ্যানচালক। দিনে রোজগার খুবই কম। বাড়িতে ছেলে-মেয়ে রয়েছে। রয়েছে তাঁদের পড়াশোনার খরচ। হঠাৎ করেই একদিন পাড়ার দোকানে মজার ছলে বলে ওঠেন, “কম্পিউটার শিখব!” কথাটা শুনে সেদিন একদল যুবক উপহাস না করে, সেই স্বপ্নকে সত্যি করার চেষ্টা করেন। বাঁকুড়া জেলার ওন্দার বাসিন্দা, পেশায় ভ্যানচালক গেঁড়ু বাউরী। ছেলে-মেয়েকে কম্পিউটার শেখাবেন, তাই নিজেও শিখতে চান তিনি। সেই দায়িত্ব তুলে নেয় ওন্দা যুব সমাজ। নিজেদের কম্পিউটার সেন্টারে শুরু হয় তালিম। তবে অক্ষরজ্ঞান না থাকায় যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে ওই ভ্যানচালককে।
কম্পিউটার টাইপিং শিখতে গেলে জানতে হবে ABCD। তাই পড়াশোনাটাও করতে চাইছেন ভ্যানচালক। কম্পিউটার খোলা-বন্ধ করা, কম্পিউটার টাইপিং এবং কম্পিউটারের ছবি আঁকা, একটু একটু করে সবই একদিন অবলীলায় করবেন বলে তাঁর বিশ্বাস। প্রশিক্ষক জানিয়েছেন, “যতই অসুবিধা হোক, কম্পিউটারে এসে বসলেই কিছু না কিছু শিখবেন। আমরা হাল ছাড়ব না।”
ভ্যানচালক গেঁড়ু বাউরী জানান, “দিন আনি দিন খাই। মজা করে একদিন বলেছিলাম, কম্পিউটার শিখব। মনে ইচ্ছা ছিল কিছু একটা করার। বলতে সাহস পেতাম না। তবে এখন প্রায় সপ্তাহে দু’দিন কম্পিউটার শিখতে আসি। ভ্যান নিয়েই আসি। দিনে ৮ ঘণ্টা করে ভ্যান চালাতে হয়। পয়সা লাগে না, লাগলেও দিতে পারতাম না।”
ওন্দার এই ছোট্ট উদ্যোগ এখন অনেকের কাছেই বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। অভাব, অশিক্ষা কিংবা বয়স, কোনও কিছুই যে শেখার ইচ্ছেকে থামাতে পারে না, তারই উদাহরণ গেঁড়ু বাউরী। প্রতিদিনের কঠিন পরিশ্রমের ফাঁকেও নতুন কিছু শেখার জেদ নিয়ে কম্পিউটারের সামনে বসছেন তিনি। আর তাঁর এই লড়াইয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওন্দা যুব সমাজও বুঝিয়ে দিচ্ছে, ইচ্ছাশক্তি আর সহযোগিতা থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।
Bankura,Bankura,West Bengal
Inspiring Story: চায়ের দোকানে মজার ছলে বলা কথা বদলে দিল জীবন, ছেলে-মেয়ের সঙ্গে কম্পিউটার শিখছেন ভ্যান চালক বাবা! হাতের কাছে নতুন দুনিয়া