Last Updated:
ত্রিলোচনের বৃদ্ধ বাবা হরিরাম মাহাতো বলেন, “গত আট বছর ধরে আমরা শুধু অপেক্ষা করে চলেছি। একদিন যদি সত্য প্রকাশ্যে আসে, তবেই আমার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে।” পরিবারের বিশ্বাস, সত্য একদিন না একদিন সামনে আসবেই। সেই আশাতেই আজও ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
পুরুলিয়া, শর্মিষ্ঠা ব্যানার্জি: দীর্ঘ আট বছর অতিক্রান্ত। কিন্তু ছেলেকে হারানোর যন্ত্রণা আজও ভুলতে পারেননি বৃদ্ধ বাবা-মা। প্রতিদিনের মতো এখনও ছেলের স্মৃতিকে আঁকড়ে বেঁচে আছে পুরুলিয়ার বলরামপুরের সুপুড্ডি গ্রামের একটি পরিবার। তবে দীর্ঘদিনের সেই অপেক্ষার মাঝে এবার যেন একটু আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন তাঁরা।
২০১৮ সালের ২৯ মে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছিল সক্রিয় বিজেপি কর্মী ত্রিলোচন মাহাতোর। তারপর থেকে বিচার চেয়ে একের পর এক দিন কেটেছে পরিবারের। বহু প্রতিশ্রুতি মিললেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন নিঃশব্দ হয়ে গিয়েছিল সেই লড়াই। তবুও ছেলের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন তাঁর বাবা-মা ও গ্রামের মানুষজন। ত্রিলোচনের বাড়ির সামনে তৈরি করা হয়েছে তাঁর আবক্ষ মূর্তি। প্রতিবছর সেখানে শহিদের স্মরণে আয়োজন করা হয় মেলা ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের অনুষ্ঠান। গ্রামের মানুষের কাছে আজও আবেগের নাম ত্রিলোচন।
সম্প্রতি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে শহিদ কর্মীদের পরিবারের কথা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শহিদ পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পর থেকেই নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে ত্রিলোচনের পরিবারও। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, সরকার শহিদ পরিবারগুলির পাশে রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ত্রিলোচনের বৃদ্ধ বাবা হাঁড়িরাম মাহাতো বলেন, ‘‘আট বছর ধরে শুধু অপেক্ষা করছি। যদি সত্যিটা একদিন সামনে আসে, তাহলেই ছেলের আত্মা শান্তি পাবে।’’ তাঁদের বিশ্বাস, একদিন না একদিন সত্য সামনে আসবেই। আর সেই আশাতেই আজও ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
নতুন প্রশাসনের উদ্যোগে বহুদিনের অমীমাংসিত এই ঘটনার সঠিক তদন্ত হবে এবং অবশেষে মিলবে ন্যায়বিচার এমনটাই আশা করছেন গ্রামবাসী থেকে ত্রিলোচনের পরিবার।