মুম্বই: প্রথম ইনিংসে রায়ান রিকেলটন (Ryan Rickelton) ঐতিহাসিক শতরান হাঁকানোর পরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স সমর্থকরা আশা করেছিলেন এবার হয়তো তাঁরা জয়ে ফিরবেন। তবে কোথায় কী! ট্র্যাভিস হেড (Travis Head) ও হেনরিখ ক্লাসেনের (Heinrich Klaasen) অনবদ্য অর্ধশতরানে ভর করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের (MI vs SRH) জয়ের ধারা অব্যাহত রইল, আবারও হারল পল্টনরা। ২৪৩ রান করেও জয়ের সরণিতে ফিরতে পারলেন না হার্দিক পাণ্ড্যরা।
২৪৪ রানের লক্ষ্য বিরাট বড় হলেও, ওয়াংখেড়ের পিচে তা অসম্ভব নয়, তা সাম্প্রতিক অতীতেই প্রমাণিত হয়েছে। তবে এত বড় রান তাড়া করতে হলে ভাল শুরুর প্রয়োজন। ঠিক সেটাই করে করেন অভিষেক শর্মা ও ট্র্যাভিস হেড। মাত্র ৩.৩ ওভারেই ৫০ রান তুলে ফেলে ট্র্যাভিষেক জুটি। পাওয়ার প্লের ছয় ওভার শেষ হতে হতে স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় ৯২ রানে। ট্র্যাভিষেকের ব্যাটিং দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বোলারদের কার্যত অসহায়ই দেখাচ্ছিল। যশপ্রীত বুমরার বিরুদ্ধে দুই ওভারে ২৮ রান ও ট্রেন্ট বোল্টের বিরুদ্ধে দুই ওভারে ২৯ রান যোগ করেন তাঁরা।
মাত্র ২০ বলে অর্ধশতরান পূরণ করেন হেড। সানরাইজার্সের ওপেনারদ্বয় বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচ একপেশে করে দেওয়ার উপক্রম করেছিলেন। তবে নবম ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘোরানোর মতো বোলিং করেন গাজ়ানফর। পরপর দুই বলে অভিষেককে ৪৫ রান ও ঈশান কিষাণকে শূন্য রানে আউট করেন আফগান স্পিনার। ঠিক পরের ওভারেই হেডকে ৭৬ রানে সাজঘরে ফিরিয়ে হার্দিক পাণ্ড্য আরও একবার সানরাইজার্সকে বড় ধাক্কা দেন। দুই ওভারের ব্য়বধানে তিন উইকেট তুলে নিয়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচে প্রবলভাবে ফিরে আসে।
তবে চলতি টুর্নামেন্টে আগেও একাধিকবার মুশকিল পরিস্থিতিতে সানরাইজার্সের বৈতরণী পার করেছেন হেনরিখ ক্লাসেন ও নীতীশ কুমার রেড্ডি। এবারও তাই হল। দুইজনে ফের একবার এক গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতরানের পার্টনারশিপ গড়েন। বোল্টের বলে ২১ রানে নীতীশ সাজঘরে ফিরলেও, ততক্ষণে সানরাইজার্স দু’শো রানের গণ্ডি পার করে ফেলেছে। ২২ বলে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন ক্লাসেন। দেখতে দেখতেই তিনি ম্য়াচে সানরাইজার্সের জয়ও সুনিশ্চিত করে ফেলেন। প্রোটিয়া তারকাকে সঙ্গ দেন সলিল আরোরা। ১০ বলে ৩০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। পরিণাম, রান তাড়া করে আইপিএল ইতিহাসের চতুর্থ সবথেকে বড় জয় পেল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।