কলকাতা: নতুন সরকার আসার পর ফের খুলছে আর জি কর মামলার ফাইল। সাসপেন্ড করা হয়েছে তিন IPS অফিসারকেও। সেই আবহেই আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়ে মারাত্মক অভিযোগ তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। আরজি কর মেডিক্যালে এখনও একটি ঘর বন্ধ রয়েছে। ওই ঘরের দেওয়ালে রক্তের দাগ রয়েছে বলে দাবি করলেন তিনি। (Abhijit Gangopadhyay)
শনিবার জেলাসফরে বেরিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন দুপুরে ফলতায় যখন জনসভা করছেন তিনি, সেই সময়ই আর জি করে গিয়ে মারাত্মক অভিযোগ তুললেন তিনি। CBI কেন এখনও ওই ঘর খোলার সময় পায়নি প্রশ্ন তুললেন তিনি। পাশাপাশি, সীমা পাহুজা কার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, সেই প্রশ্নও তুললেন। (RG Kar Case)
এদিন আর জি কর মেডিক্যালের এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে যান অভিজিৎ। ওই এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়েই তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। কেন সেখানে পৌঁছলেন অভিজিৎ? তাঁর কথায়, “আমি গিয়েছিলাম কারণ জানতে পেরেছি, তদন্তে সিবিআই-এর যিনি কর্তা ছিলেন, সীমা পাহুজা, তিনি দু’টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেননি। একটা ঘর যেটা প্রায় দু’বছরের কাছাকাছি বন্ধ হয়ে আছে, যেখান থেকে ইনক্রিমিনেটিং জিনিস পাওয়া যেতে পারে, সেটা তিনি খোলেনি, কেউ খোলেননি। আমি নিজে গিয়ে দেখে এলাম এখনও তালাবন্ধ এবং সিল করা। সত্যিই এমন কোনও ঘর আছে কি না, দেখতে এসেছিলাম।”
দ্বিতীয় কারণ জানিয়ে অভিজিৎ বলেন, “একটা সিঁড়ি, যে সিঁড়ি দিয়ে আন্দাজ করা হচ্ছে একটা ডেডবডি নামানো হচ্ছিল, যে দিন অভয়া মারা যায়, খুন হয়, সেদিন রাতে। একজন নার্স ভিডিও তুলেছিলেন। সেই ভিডিও সিবিআই-এর সীমা পাহুজা নিয়ে নেন এবং বলেন, ‘আপনি নিজের ভিডিওটা মুছে দিন। নইলে আপনি বিপদে পড়বেন’। কে আর বিপদে পড়তে চায়? তিনি ভিডিওটা মুছে দেন, কপিটা দিয়ে দেন সিবিআই-এর সীমা পাহুজাকে। তার পর থেকে আর কখনও ভিডিওটা সর্বসমক্ষে আসেনি।”
অভিজিতের দাবি, সিঁড়িটা কোথা থেকে কোথায় গিয়েছে, সোজা এমার্জেন্সিতে গিয়েছে। সিঁড়িটা দিয়ে নেমে একটা প্যাসেজ দিয়ে সেখানে যাওয়া যায়, যেখানে অভয়ার মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। এসব কিছু এখনও পর্যন্ত দেখেনি সিবিআই। সিবিআই নয়, নির্দিষ্ট করে সীমা পাহুজার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন অভিজিৎ। অভিযুক্ত হিসেবে সীমা পাহুজাকে তদন্তে যুক্ত করতে হবে বলে দাবি তুলেছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধেও তদন্ত হওয়া দরকার বলে মত তাঁর। অভিজিতের বক্তব্য, “নিঃসন্দেহে। উনি করেননি কেন? এটা তো অত্যন্ত স্বাভাবিক কাজ? কে ওঁকে ইনফ্লুয়েন্স করেছিল?”
প্রমাণ লোপাটে সীমা পাহুজাও যুক্ত বলে দাবি করেন অভিজিৎ। তাঁর কথায়, “অবশ্যই সাপ্রেশনে যুক্ত। নাহলে তদন্তের এই হাল হয় না। সিবিআই অনেক বড় সংস্থা, অনেক চালাক চতুর ব্যাপার। সিবিআই-এ এসব অকালকুষ্মাণ্ড থাকলে সিবিআই-এর দুর্নাম এভাবে হবে। তাই গোটা সিবিআই-কে দোষ দিচ্ছি না আমি। আমি দোষ দেখছি নির্দিষ্ট ওই অফিসারকে। তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবে যুক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার।”