Last Updated:
East Bardhaman Mango Price: বর্ধমানে জলের দরে আম! কেজি প্রতি মাত্র ১ থেকে ২ টাকা দর মিলছে বাজারে। কিন্তু প্রশ্ন হল কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল? এমন পরিস্থিতিতে চাষিরাই বা পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
কালনা, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: কালবৈশাখীর এক ঝড়েই যেন স্বপ্নভঙ্গ হল পূর্বস্থলীর পলাশপুলি এলাকার অসংখ্য আম চাষির। বছরের পর বছর ধরে যত্নে বড় করে তোলা আমগাছ, দিনরাত পরিশ্রম করে ফলানো ফসল, সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল ঝড়ের তাণ্ডবে। সোমবার বিকেলের আচমকা কালবৈশাখী শুধু গাছের ডালই ভাঙেনি, ভেঙে দিয়েছে বহু কৃষক পরিবারের আশা-ভরসাও। ঝড় থামার পর থেকেই গ্রামের বিভিন্ন আমবাগানে দেখা যায় এক করুণ ছবি। গাছের নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে অসংখ্য কাঁচা ও পাকা আম। যেসব আম কয়েকদিন পর বাজারে ভালো দামে বিক্রি হওয়ার কথা ছিল, সেই আমই এখন কার্যত জলের দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। অনেকেই চোখের সামনে নিজেদের পরিশ্রম মাটিতে মিশে যেতে দেখে হতাশ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় চাষি সুরজিৎ শীলের অভিযোগ, ঝড়ে পড়ে যাওয়া আম এখন মাত্র এক থেকে দুই টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাও আবার অনেক সময় ক্রেতা মিলছে না। অন্যদিকে গাছে থাকা আমের দামও অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই কম। বর্তমানে বাজারে আমের দাম ঘোরাফেরা করছে কেজি প্রতি ১২ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে। ফলে উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকদের কাছে।
চাষিদের দাবি, প্রতি বছর এই এলাকার আম বিহার, ঝাড়খণ্ড-সহ বিভিন্ন ভিনরাজ্যে পাঠানো হয়। কিন্তু এ বছর অন্যান্য রাজ্যেও ফলন বেশি হওয়ায় বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগান অনেক বেড়ে গিয়েছে। সেই কারণেই দাম এতটা কমে গিয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে বাজারে ধস! দু’দিক থেকেই চাপে পড়েছেন আম চাষিরা। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা জানান, আম চাষের উপর নির্ভর করেই বহু পরিবারের সংসার চলে। সারা বছরের উপার্জনের বড় অংশ আসে এই মরশুম থেকেই। কিন্তু এবার সেই আশাতেই বড় ধাক্কা লেগেছে। আম চাষি নিরঞ্জন ভট্টাচার্য্য বলেন, সরকারিভাবে আম চাষের জন্য বীমার ব্যবস্থা করা হোক এবং এলাকায় একটি হিমঘর তৈরি করা হোক, যাতে আম সংরক্ষণ করে পরে ভালো দামে বিক্রি করা যায়।
এই প্রসঙ্গে পূর্বস্থলী উত্তরের নবনির্বাচিত বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমার লক্ষ্য পূর্বস্থলীর সার্বিক উন্নয়ন। আম চাষিদের এই সমস্যাও সেই উন্নয়নেরই অংশ। বিষয়টি আমি সরকারের কাছে তুলে ধরব এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আবেদন জানাব।” তবে বিধায়কের আশ্বাসে কিছুটা ভরসা পেলেও, এখনও দুশ্চিন্তা কাটছে না চাষিদের। কারণ তাঁদের কাছে আম শুধু একটি ফল নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে বেঁচে থাকার অবলম্বন। ঝড়ে পড়ে থাকা সেই আম কুড়োতে কুড়োতে অনেক কৃষকের চোখেই ধরা পড়ছে হতাশার ছাপ। এখন তাঁদের একটাই আশা সরকার ও প্রশাসন দ্রুত পাশে দাঁড়াক, যাতে আগামী দিনে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আর এভাবে সর্বস্ব হারাতে না হয় এলাকার কৃষকদের।
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal
Mango Price: বর্ধমানে জলের দরে আম! কেন মাত্র ২ টাকা কেজিতে বিকোচ্ছে পূর্বস্থলীর কাঁচা-পাকা আম? আচমকা হলটা কী